জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের অতীতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সভা-সমাবেশ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জোরালো বক্তব্য রাখতেন ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী ‘ইনকিলাব মঞ্চ’র আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি। তার এসব বক্তব্যে বেজায় নাখোশ হয় দেশে আত্মগোপনে থাকা এবং বিদেশে পলাতক আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় হাদিকে গুলি করেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতি করা ফয়সাল করিম মাসুদ।
আর ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীরকে পলায়নে সহায়তা করেন সেই বাপ্পীই।মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিলের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।তিনি বলেন, শরিফ ওসমান হাদি বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন অতিপরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের অতীতের কর্মকাণ্ড নিয়ে তিনি সভা-সমাবেশে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনামূলক ও জোরালো বক্তব্য রাখতেন। তার এসব বক্তব্যে ছাত্রলীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়।ডিবিপ্রধান বলেন, হাদিকে গুলি করা ফয়সাল করিম মাসুদ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ফয়সাল ও আলমগীরকে পলায়নে সহায়তা করা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর ছিলেন।
ফলে আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং ভুক্তভোগীর পূর্ববর্তী রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।শফিকুল ইসলাম জানান, হাদিকে গুলি করা পলাতক ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলেই চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। ১৭ জনের মধ্যে ১২ জন গ্রেপ্তার এবং পাঁচজন পলাতক রয়েছে।অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের কথিত ভিডিওবার্তা নিয়ে ডিবিপ্রধান বলেন, ভিডিওবার্তাটি সঠিক, তবে তার অবস্থান দুবাই নয়।
আমরা তদন্তে পেয়েছি সে ভারত আছে। ভিডিও বার্তা দিতেই পারে, কিন্তু তার বিরুদ্ধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী জুলাই বিপ্লবী ওসমান হাদিকে গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার রাস্তায় প্রকাশ্যে গুলি করে মোটরসাইকেলে আসা ফয়সাল করিম মাসুদ। গত ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওসমান হাদি মারা যান।
গুলি করার পর শুটার ফয়সাল ও তাকে বহনকারী মোটরসাইকেলের চালক আলমগীর শেখ ভারতে পালিয়ে যায়।
হাদিকে গুলির ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় একটি মামলা করেন। পরে ২০ ডিসেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ (হত্যা) ধারা সংযোজনের নির্দেশ দেন।
প্রদা/ডিও