সরকারের খরচ কমানোর নীতি ও দেশের সার্বিক অর্থনীতি অনিশ্চয়তায় চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে গত ৩ বছরের বেশি সময়ের পর প্রথমবারের মতো রডের দাম টনপ্রতি ৯০,০০০ টাকার নিচে নেমে গেছে।
টিসিবি তথ্যানুযায়ী, নির্মাণ ও অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যবহুত হওয়া ৬০ গ্রেড মাইল স্টিল (এমএস) রডের খুচরা মূল্য বর্তমান সময়ে আগের বছরের তুলনায় ১২% কমে টনপ্রতি ৮৫,০০০ থেকে ৮৯,০০০ টাকায় নেমেছে গেল সপ্তাহে। অথচ গত বছরেও এর দাম ছিল ৯৭,৫০০ থেকে ৯৯.৫০০ পর্যন্ত।
২০২২ সালে রডের দাম ছিল টনপ্রতি ৯১,৫০০ টাকা, ২০২৪ সালে রডের দাম সর্বোচ্চ ১,০০,০০০ টাকায় পৌছে গিয়েছিল। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে এসে ১২% কমে ৮৫,০০০ টনপ্রতি হিসেবে এসে দাড়িঁয়েছে। বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারস এসোশিয়েসন এর তথ্যানুযায়ী রডের চাহিদা ৩৫ শতাংশ কমেছে। গেল বছরের আগষ্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আগে দেশে প্রতিমাসে সাড়ে ৬ লক্ষ টন এমএস ব্যবহুত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এসে ৪ লক্ষ টন হয়েছে। এর কারণ হিসেবে দায়ী করা হচ্ছে বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পের কার্যক্রমগুলো গত বছরে জুলাই হতে ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পাওয়াকে।
বিএমএস এর মহাসচিব ও আরআরএম গ্রুপের চেয়ারপার্সন সুমন চৌধুরী বলেন, গত ২৭শে জুলাই কয়েক মিনিটের ব্যবধানে রডের দাম ৯% কমে গিয়েছে। অভ্যন্তরীন চাহিদা প্রায় নেই বললেই চলে। এমতাবস্থায় অস্থির বাজারে ব্যবসা করা কঠিন। তিনি আরও বলেন, সীমিত ব্যাংক ঋন সহ বিভিন্ন কারণে বন্দর স্টিল ও মোহাম্মদী স্টিলের মতো ছোট উৎপাদক প্রতিষ্ঠান গুলোতে উৎপাদন স্থগিত রয়েছে। বর্ষায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার কারণে অনেক সরকারি বেসরকারি নির্মাণ প্রকল্প পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। তাই অনেক উৎপাদক প্রতিষ্ঠান কেন্দ্র ৮৫ হাজার বা আরও কমদামে রড বিক্রি করছে শুধুমাত্র কারখানা সচল রাখার জন্য।
বিএসআরএম এর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন সেনগুপ্ত বলেন, উৎপাদন স্থিতিশীল চাহিদা কমলে দাম কমে আর এটাই বাজারের অর্থনীতি। দামের পতন পুরোপুরিভাবে চাহিদা নির্ভর। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বড় প্রকল্পগুলোতে কাজ কমেছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ফলে সড়কের সংরক্ষনাবেক্ষন ও ছোট অবকাঠামোগত কাজগুলো এখন চলছে ধীরগতিতে।
চন্দ্রী/প্রদা/ডিও






