যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে সিলেট এসে পৌঁছেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে তাকে বহনকারী উড়োজাহাজটি।
যাত্রাবিরতি শেষে সিলেট থেকে রওনা হয়ে দুপুর পৌনে ১২টায় রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে উড়োজাহাজটি।
প্রায় ১৮ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে আজ দেশে ফিরলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট বিজি–২০২ (বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার) সাড়ে নয়টার দিকে দেশের আকাশ সীমানায় পৌঁছে।
তারেক রহমান তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে সকাল ৯টা ৩৪ মিনিটে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন: ‘দীর্ঘ ৬ হাজার ৩শ ১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে!’
গতকাল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ১২টা) ঢাকার উদ্দেশে বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইটে (বিজি ২০২) করে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তিনি। তার সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান।
প্রায় ১৮ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর তারেক রহমানের এ প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিএনপির দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে আজ।
তারেক রহমানের প্রয়াত ভাই আরাফাত রহমান কোকোর দুই কন্যা জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমানও একই ফ্লাইটে রয়েছেন। এছাড়া সাংবাদিক সালেহ শিবলী এবং তারেক রহমানের কয়েকজন ব্যক্তিগত সহকারীও ফ্লাইটটিতে আছেন।
তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানের পোষা বিড়াল জেবুও পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে আসছে।
ফ্লাইটটি আজ বৃহস্পতিবার বেলা আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে ১১টা ৫০ মিনিটের মধ্যে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।
দলের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যসহ বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা শাহজালাল বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছেন।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার প্রস্তুতিও গ্রহণ করা হয়েছে। তার আগামী কয়েকদিনের ব্যস্ত সূচিতে ব্যক্তিগত কর্মসূচি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার হলো সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অসুস্থ মা, খালেদা জিয়াকে দেখতে যাওয়া। তবে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যাত্রাপথের মাঝামাঝি রাজধানীর ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ (৩০০ ফিট) এলাকায় তিনি অতি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য দেশবাসীর উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন। সেখান থেকে হাসপাতাল এবং তারপর সরাসরি গুলশানে নিজ বাসায় যাবেন।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি কোনো জনসভা বা সংবর্ধনা অনুষ্ঠান নয়, শুধুমাত্র দেশবাসীর প্রতি তার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং খালেদা জিয়াসহ দেশের সকল মানুষের কল্যাণ কামনায় দোয়ার অনুরোধের একটি সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি। এই আয়োজনে তারেক রহমানই একমাত্র বক্তা।
প্রদা/ডিও






