২০২৪ সালে সরকারি সেবা নিতে দেশের এক-তৃতীয়াংশ সেবাগ্রহীতা ঘুষ–দুর্নীতির শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
বিবিএসের ২০২৫ সালের সিটিজেন পারসেপশন সার্ভেতে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এতে জানা যায়, দেশে সরকারি সেবাগ্রহণের ক্ষেত্রে ঘুষ এখনও একটি প্রধান উদ্বেগের বিষয়।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পরিচালিত এই জরিপে ৬৪ জেলার ৪৫ হাজার ৮৮৮টি খানার ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ৮৪ হাজার ৮০৭ জন অংশ নেন।
জরিপে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, ন্যায়বিচারের সুযোগ, দুর্নীতি এবং সরকারি পরিষেবার মান সম্পর্কিত নাগরিকদের অভিজ্ঞতা এবং ধারণা মূল্যায়ন করে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ১৬-এর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণেও অবদান রাখে।
জরিপ অনুসারে, প্রায় ৩১.৬৭% নাগরিককে গত ১২ মাসে সরকারি পরিষেবা গ্রহণের সময় ঘুষ দিতে হয়েছে। নারীদের তুলনায় পুরুষরা বেশি বার ঘুষের সম্মুখীন হয়েছেন।জরিপে অংশ নেওয়া ২২.৭১% নারী ঘুষের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন, অন্যদিকে ৩৮.৬২% পুরুষ এই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
জরিপের তথ্যানুসারে, সবচেয়ে বেশি ঘুষ–দুর্নীতি হয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যালয়ে।
জরিপে অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, গত এক বছরে বিআরটিএতে সেবা নিতে যাওয়া নাগরিকদের ৬৩ দশমিক ২৯ শতাংশ ঘুষ–দুর্নীতির শিকার হন। এরপর রয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ৫৭.৯৬% এবং পাসপোর্ট অফিসে ৫৭.৪৫%।
জরিপে আরও দেখা গেছে, জনসংখ্যার একটি বড় অংশ এখনও সরকারি পরিষেবার উপর নির্ভরশীল।
গত বছর জরিপে অংশ নেওয়া ৪৭.১২% নাগরিক সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পেয়েছেন এবং ৪০.৯৩% জানিয়েছেন যে তাদের কমপক্ষে একটি শিশু সরকারি স্কুলে ভর্তি হয়েছে।
এছাড়াও, ৭৩.৭৭% নাগরিক জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন বা অনুরূপ সেবাসহ অন্যান্য সরকারি পরিষেবা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
ঘুষ নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও, সরকারি সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে সন্তুষ্টির মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল।
সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে মধ্যে ৭২.৬৯% জন সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং ৮১.৫৬% প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে এবং ৭৮.২০% মাধ্যমিক শিক্ষা নিয়ে সন্তুষ্ট ছিল । তবে অন্যান্য সরকারি পরিষেবার প্রতি সন্তুষ্টি তুলনামূলকভাবে কম ৬৬.৯১% ছিল।
প্রদা/ডিও






