অপেক্ষার প্রহর শেষ। বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রযাত্রার ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ভুটানের ট্রানজিটের প্রথম চালান যাচ্ছে বুড়িমারী স্থলবন্দরে। সড়কপথে পাড়ি দেবে প্রায় ৬৮৪ কিলোমিটার। সেখান থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দরের মাধ্যমে শিলিগুড়ি হয়ে ভুটানের ফুয়েন্টশোলিং স্থলবন্দর পৌঁছাবে চালানটি।
বন্দর, কাস্টমস ও সিঅ্যান্ডএফ সূত্রে জানা গেছে, শুল্কায়ন, বিভিন্ন ফি পরিশোধের পর বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাত সাড়ে নয়টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি থেকে ভুটানের ট্রানজিট চালানের ২০ ফুট দীর্ঘ কনটেইনারটি বহনকারী ট্রেইলার বিশেষ ব্যবস্থায় বুড়িমারীর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এ কনটেইনারের নিরাপত্তার জন্য এসকর্ট সেবা দিচ্ছে কাস্টমস।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে ২০২৩ সালের ২২ মার্চ সই হওয়া ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্য মুভমেন্ট অব ট্রাফিক-ইন-ট্রানজিট’ চুক্তি ও প্রটোকলের আওতায় পরীক্ষামূলক ভাবে চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসে প্রায় দুই মাস আগে। ভুটানের চালানটি ‘এমভি এইচআর হিরা’ জাহাজে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছিল। থাইল্যান্ড থেকে আসা ভুটানের পরীক্ষামূলক চালানটিতে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কেজি পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে শ্যাম্পু, শুকনো পাম ফল, আইস টি, চকলেট, অরেঞ্জ জুস ইত্যাদি রয়েছে।
চালানটির রপ্তানিকারক থাইল্যান্ডের অ্যাবিট ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড। চালানটি আমদানি করেছে ভুটানের এবিট ট্রেডিং। ভুটানের চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এনএম ট্রেডিং করপোরেশন।
সূত্র জানায়, প্রতি চালানে ডকুমেন্ট প্রসেসিং ফি ৩০ টাকা, ট্রান্সশিপমেন্ট ফি প্রতি টন ২০ টাকা, নিরাপত্তা চার্জ প্রতি টন ১০০ টাকা, এসকর্ট ফি প্রতি কনটেইনারে কিলোমিটারপ্রতি ৮৫ টাকা, প্রশাসনিক মাশুল প্রতি টন ১০০ টাকা এবং স্ক্যানিং ফি প্রতি কনটেইনারে ২৫৪ টাকা পাবে বাংলাদেশ। পরীক্ষামূলক চালানের জন্য সড়ক টোল ও মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম পোর্ট অ্যাকসেস রোডে ১২ কিলোমিটারের টোল সড়ক রয়েছে, যার জন্য ৪৫ টাকা টোল দিতে হবে। এ ছাড়া মেঘনা, মেঘনা–গোমতী, যমুনা এবং তিস্তা ব্রিজের জন্য মোট টোল দিতে হবে ৪ হাজার ৮১৫ টাকা। আবার ট্রেইলারের মোট ওজন ধরে প্রতি টনে টোল ফ্রি সড়কের (৬৭২ কিলোমিটার) জন্য মাশুল দিতে হবে ১ হাজার ৪৬২ টাকা। এ হিসাবে সাড়ে ৬ টন পণ্যের জন্য ১০ হাজার ২৩৪ টাকা মাশুল দিতে হবে।
চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে (জানুয়ারি-অক্টোবর) চট্টগ্রাম বন্দরে ২৮ লাখ ৪৯ হাজার ৫৪২ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১১ কোটি ৫০ লাখ ৬৭ হাজার ২০০ মেট্রিক টন এবং ৩ হাজার ৫৫২টি জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ লাখ ৩২ হাজার ৩২৮ টিইইউএস কনটেইনার, ১ কোটি ২৯ লাখ ৮ হাজার ১৭৪ মেট্রিক টন কার্গো এবং ৩৫১টি জাহাজ বেশি হ্যান্ডলিং হয়েছে। কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ, কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে ১২ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে ১০ দশমিক ৯৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
প্রদা/ডিও