ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্ত আরও কঠোর করলো বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমডি হিসেবে নিয়োগ পেতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাংকিং পেশায় সক্রিয় কর্মকর্তা হিসেবে অবশ্যই ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছে। এর আগে কাউকে ব্যাংকের এমডি বা সিইও পদে নিয়োগ দিতে হলে তার কমপক্ষে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা ও বয়স ন্যূনতম ৪৫ বছর হওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে জারি করা সার্কুলারে বলা হয়েছে, আগের নির্দেশনার ২(গ)(১০) অনুচ্ছেদ সংশোধন করে এমডি/ সিইও নিয়োগে অভিজ্ঞতার মানদণ্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে। এমডি নিয়োগে নতুন যোগ্যতায় বলা হয়েছে-
১. ব্যাংকিং পেশায় সক্রিয় কর্মকর্তা হিসেবে কমপক্ষে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
২. পাশাপাশি উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিডি) বা অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) পদে এককভাবে বা দুটো পদ মিলিয়ে কমপক্ষে ৩ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
অথবা,
৩. ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থায় প্রথম শ্রেণি বা সমমানের এবং তদূর্ধ্ব পদে কমপক্ষে ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
৪. পাশাপাশি জাতীয় বেতন স্কেলের ২য় গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও থাকতে হবে।
অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির সার্কুলারে এমডি/ সিইও নিয়োগসংক্রান্ত যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, নতুন সংশোধন ছাড়া বাকি সব নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ব্যাংকের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, উপযুক্ততা ও অভিজ্ঞতার মানদণ্ডে সামঞ্জস্য ও সর্বজনীনতা নিশ্চিত করতেই আগের ধারা সংশোধন করা হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এমডি পদে নিয়োগ পেতে হলে স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। অর্থনীতি, হিসাববিজ্ঞান, ফাইন্যান্স, ব্যাংকিং, ব্যবস্থাপনা বা ব্যবসায় প্রশাসনে উচ্চতর ডিগ্রি থাকলে তা অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে ডিজিটাল ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী নির্বাচনের ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা আরও বেশি গুরুত্ব পাবে। শিক্ষাজীবনের কোনো স্তরে তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি গ্রহণযোগ্য নয়। গ্রেডিং পদ্ধতিতে এসএসসি/ সমমান ও এইচএসসি/ সমমান পরীক্ষায় জিপিএ ৩ -এর নিচে হলে, কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিজিপিএ ৪ স্কেলে ২.৫০-এর কম বা ৫ স্কেলে ৩ -এর কম হলে তা অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
প্রদা/ডিও







