সাম্প্রতিক ভূমিকম্প পরিস্থিতি উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গত দুদিনে একাধিক ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর আগামী এক সপ্তাহে আরও অন্তত ২০ বার ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে কোনোটি শক্তিশালী মাত্রারও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভারত, ইউরেশিয়া ও বার্মা—এই তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে বাংলাদেশের অবস্থান। ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের রুবাইয়াত কবির জানিয়েছেন, প্লেটগুলো এখন আটকানো অবস্থায় থেকে মুক্ত হচ্ছে। যদি ভারতীয় প্লেট ইউরেশীয় প্লেটের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটায়, তবে বাংলাদেশ মারাত্মক ভূমিকম্প ঝুঁকিতে পড়বে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশ তিনটি বৃহৎ টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় ভূমিকম্প ঝুঁকি সবসময়ই বেশি থাকে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় একটি গোপন ফল্ট রয়েছে যা ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প সৃষ্টি করতে সক্ষম। এমন ভূমিকম্প হলে রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, টেকনাফ-মিয়ানমার ফল্ট লাইনে ১৭৬২ সালে ৮.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে সেন্টমার্টিন দ্বীপ ৩ মিটার উপরে উঠে আসে। বর্তমানে সেখানে শক্তি সঞ্চয় হচ্ছে। প্লেট চলাচল অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ভূমিকম্পের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত যে প্লেট সংযোগস্থল রয়েছে সেখানে বহু বছর ধরে শক্তি জমা হচ্ছে। এই অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের কারণ।
সর্বশেষ কম্পনগুলোকে বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যৎ ঝুঁকির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, পরিস্থিতি আরও পর্যবেক্ষণ করা জরুরি এবং এখনই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।