ঘূর্ণিঝড়টির নাম হবে ‘অর্ণব’। নামটি বাংলাদেশের দেওয়া, যার অর্থ সাগর।
বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে এ অঞ্চলের ১৩টি দেশ। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) আঞ্চলিক কমিটির সদস্য বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন ঘূর্ণিঝড়ের নামের তালিকা দেয়। দেশগুলোর দেওয়া নাম পর্যায়ক্রমে ব্যবহার করা হয়।
একই সময়ে একাধিক ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলে সেগুলোকে সহজে শনাক্ত করার সুবিধার্থে নামকরণের প্রচলন শুরু হয়। নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী, বর্তমান ঝড়টি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর নাম হবে ‘অর্ণব’।
ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলেও বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বেড়েছে।
বাংলাদেশের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ দিন দেশে বৃষ্টির প্রবণতা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এরপর ধীরে ধীরে বৃষ্টির প্রবণতা কমতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে ভারতের কয়েকটি রাজ্যে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভারতীয় আবহাওয়াবিদ ড. চিন্ময় কুমার জেনার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওডিশা, তেলেঙ্গানা, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড ও বিহারে ঝড়ের প্রভাবে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২৬ অক্টোবর সকাল থেকে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর উত্তাল এবং ২৭ অক্টোবর সকাল নাগাদ অত্যন্ত উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। ২৮ অক্টোবর সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে সাগরের পরিস্থিতি অত্যন্ত প্রতিকূল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের আশপাশের সমুদ্রও উত্তাল থেকে অত্যন্ত উত্তাল হয়ে উঠতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত পূর্ব-মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে মাছ ধরতে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর পশ্চিম-মধ্য, উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে এবং ২৭ ও ২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশ-ওডিশা উপকূলের আশপাশে সমুদ্রে না যেতে জেলেদের সতর্ক করা হয়েছে।
২৭ ও ২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং দক্ষিণ ওডিশার সংলগ্ন অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, কাঁচা ঘরবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং খড়ের ছাউনি দেওয়া ঘর পুরোপুরি ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাকা বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগের খুঁটি বাঁকা হয়ে যাওয়া বা উপড়ে পড়ার পাশাপাশি গাছের ডাল ভেঙে যাওয়া এবং বড় গাছ উপড়ে পড়তে পারে।
এ ছাড়া ফসল, বাগান ও ফলের গাছের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সড়ক, রেলপথ, বিদ্যুতের ওভারহেড লাইন ও সংকেতব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। ছোট নৌকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নোঙর করা নৌযানও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ঝড়ের সময় দৃশ্যমানতা মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। ভারী বৃষ্টিতে বড় শহরগুলোর রাস্তায় পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জরুরি বহির্গমন পথেও পানি ঢুকতে পারে। এ কারণে যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার আবহাওয়া, সড়কের অবস্থা ও যান চলাচলের পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।







