চট্টগ্রামের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে সেবার নামে চরম অনিয়ম, ভুল চিকিৎসা, অতিরিক্ত বিল আদায় ও রোগীদের জিম্মি করার ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। চিকিৎসার চড়া খরচ মেটাতে গিয়ে অসহায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো নিঃস্ব হলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা। সাম্প্রতিক সময়ে নগরীর শীর্ষস্থানীয় হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে ঘটে যাওয়া আলোচিত অনিয়মগুলোর চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
-
সাজিনাস হাসপাতাল: ২৪ দিন বয়সী এক নবজাতকের ভুল স্থানে আইভি ক্যানুলা স্থাপন ও অস্ত্রোপচারে রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত করার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসায় অবহেলার কারণে সংক্রমণ পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে হাতের তালু ও আঙুলে গ্যাংগ্রিন দেখা দেয়। পরবর্তী সময়ে ঢাকা নেওয়ার পর শিশুটির মৃত্যু হয়।
-
চট্টগ্রাম ল্যাবএইড হাসপাতাল: এক পুলিশ কর্মকর্তার (এসআই) প্রসূতি স্ত্রীকে তাদের সম্মতি ব্যতিরেকে (ইনফর্মড কনসেন্ট ছাড়া) জোরপূর্বক ভর্তি করানোর অভিযোগ উঠেছে গাইনোকোলজিস্টের বিরুদ্ধে। ৬০ হাজার টাকার কথা বলে পরে অতিরিক্ত ওভার-বিলিংশ করে বিল করা হয় ৯৮ হাজার টাকা। প্রতিবাদ জানালে সাংবাদিক ও ঘটনাস্থলে আসা পুলিশ সদস্যদের লাঞ্ছিত ও হেনস্তা করার ঘটনা ঘটে।
-
পার্কভিউ হাসপাতাল: নিউরোসার্জনের বিরুদ্ধে ব্রেন টিউমারের ভুল অপারেশন ও ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পিবিআই তদন্ত করছে। এ ছাড়া দুজন প্রসূতির ক্ষেত্রে স্বজনদের না জানিয়ে একই রাতে দুইবার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা, অতিরিক্ত বিল আদায় এবং ভুল চিকিৎসায় একাধিক রোগীর জীবন সংকটাপন্ন করার খবর মিলেছে। পূর্বে নবজাতকের মাথায় চোট (স্কাল্প ইনজুরি) ও তথ্যসংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছিল এখানে।
-
অ্যাপোলো ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল: ডেঙ্গু আক্রান্ত ২২ বছর বয়সী এক যুবক ভর্তি হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মারা যান। কিন্তু প্রিয়জন হারানোর শোকের মধ্যেই স্বজনদের হাতে স্বল্প সময়ের চিকিৎসার জন্য ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকার বিশাল অঙ্কের বিল ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
-
সিএসসিআর হাসপাতাল: প্রসূতি মায়ের জন্য নির্ধারিত ইনজেকশন চরম গাফিলতি করে সদ্যজাত শিশুর শরীরে পুশ করেন দায়িত্বরত নার্স। শিশুটি এনআইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চলে গেলে পুরো ঘটনাটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও নার্স ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়।
-
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (চমেক): সরকারি এই হাসপাতালে পদে পদে দালালের খপ্পরে পড়ছেন সাধারণ রোগীরা। জরুরি বিভাগে ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার স্লিপ হাতবদল করে নির্দিষ্ট দোকানে নিয়ে অতিরিক্ত দাম রাখা হচ্ছে। মাত্র ২ হাজার টাকার ওষুধ বহিরাগত দালালের মাধ্যমে বিভ্রান্ত করে প্রলোভনে ফেলে রাখা হচ্ছে ৮ হাজার ৩০০ টাকা।





