লালখান-পতেঙ্গা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে একাধিক উন্নয়ন কাজ চলছে। এসব কাজে নিরাপত্তা ও নির্মাণ মান নিয়ে দেখা দিয়েছে নানান প্রশ্ন। পর্যন্ত একইসঙ্গে চলছে নালা ও রিটাইনিং ওয়াল, ফ্লাইওভার ও সড়ক নির্মাণের কাজ। অভিযোগ রয়েছে, নিম্ন মানের পাথর ও বালি ও নিম্ন মানের সামগ্রী ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের লালখান-এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ।
পতেঙ্গা এয়ারপোর্টে যাওয়ার রাস্তাটি একপাশে চলছে নালা ও রিটাইনিং ওয়ালের কাজ। মাঝখানে চলছে পতেঙ্গা সী-বিচ এর কুল ঘেঁষে আসা আউটার লিংক রোডের থেকে এয়ারপোর্ট দিকে নামতে ফ্লাইওভারের কাজ। অন্যদিকে এয়ারপোর্টের দিকে ওঠে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের চক্কর ঘুরে আউটার লিংক রোডের এডজাস্টিং হয়ে তৈরি হচ্ছে পতেঙ্গা ফ্লাইওভার ও নতুন রাস্তা বানানোর কাজ। পুরো এলাকায় একাধিক নির্মাণকাজ একই সময়ে চলায় বিঘ্ন হচ্ছে, যানবাহন ও পথচারীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বেষ্টনি না থাকায় চলাচলেও তৈরি হচ্ছে নানান ধরনের ভোগান্তি।
চউকের চট্টগ্রাম সিটি আউটার লিংক রোড (পতেঙ্গা-সাগরিকা) প্রকল্পে ১৫.২০ কিমি ৪-লেন সড়ক, দুটি feeder road-এর অংশে মোট ২.১৫ কিমি flyover, interchanges, roundabout, retaining/wave-deflector রয়েছে। বর্তমানে Tunnel Junction-এর flyover-এর piling এবং দুই পাশে road widening-এর কাজ চলমান বলে চউক জানিয়েছে। প্রকল্পটির মোট ৪র্থ সংশোধিত ব্যয় ৩,৩২৪.১৫ কোটি টাকা।
তবে এত বড় ব্যয়ের প্রকল্পে নির্মাণস্থলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়াই নির্মাণকাজ চলতে দেখা গেছে। এতে নির্মাণস্থলের পাশে দিয়ে চলাচলকারী পথচারী ও যানবাহনের জন্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় হচ্ছে নানান ধরনের দুর্নীতি। বিভিন্ন অনুসন্ধানে উঠে আসে, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট EXPETRA-এর প্রজেক্ট ম্যানেজার মিরাজের যোগসাজশে সাপ্লাইয়ার ও প্রকল্প ব্যয় ও অন্যান্য খাত থেকে আত্মসাৎ ও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য উঠে আসে।
এদিকে EXPETRA প্রতিষ্ঠানটি তাদের ইচ্ছামত কাজ করায় সাধারণ মানুষ পড়েছে ভোগান্তিতে। ফলে নির্মাণ কাজ চলার রাস্তায় তৈরি হয়েছে বড় গর্ত। যানবাহন আটকে বা উল্টে গিয়ে যাত্রী ও পথচারীদের হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক পরিকল্পনার অভাব, নিম্নমানের সংস্কারকাজ এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীন উন্নয়নকাজের কারণে বর্ষা মৌসুমে সড়কের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে আসা পর্যটকদের ভোগান্তি ও চরমে।
অন্যদিকে ২০১৯ সালে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পতেঙ্গা এলাকায় নির্মিত শহর রক্ষা বাঁধের সঙ্গে থাকা ওয়াকওয়ের কয়েকটি অংশ উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়েছিল।
চরপাড়া এলাকায় সাগরের পাশ দিয়ে নির্মাণাধীন ‘উপকূলীয় বাঁধ কাম আউটার রিং রোড’-এর একটি অংশে এ ঘটনা ঘটে। এতে ওয়াকওয়ের আরও বড় অংশ ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, লোহার রডের যথাযথ ব্যবহার না করে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কাজ করায় ওয়াকওয়ের অংশ ধসে পড়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান EXPETRA এর অনিয়ম ও নির্মাণকাজের দুর্বলতার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। এ ঘটনায় চউকের ভূমিকা নিয়েও কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন।
পতেঙ্গা এলাকায় একই সময়ে একাধিক বড় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চললেও সড়ক ব্যবহারকারী ও পথচারীদের নিরাপত্তা, নির্মাণকাজের মান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয়ের বিষয়গুলো যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না এ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।





