শক্তিশালী করপোরেট সুশাসন, কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং কৌশলকে ভিত্তি করে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে চায় ব্র্যাক ব্যাংক। আগামী পাঁচ বছরে ব্যাংকটির লক্ষ্য দেশের সবচেয়ে ‘ইমপ্যাক্টফুল’ ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া এবং বাজার হিস্যা প্রায় দ্বিগুণ করা।
ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এক সাক্ষাৎকারে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই দেশীয় ক্রেডিট রেটিং এজেন্সিগুলোর কাছ থেকে সর্বোচ্চ এএএ (AAA) রেটিং ধরে রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক। একই সঙ্গে দেশের একমাত্র ব্যাংক হিসেবে আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল ও মুডি’স রেটিংস থেকেও দেশের সর্বোচ্চ ক্রেডিট রেটিং অর্জন করেছে।
তিনি বলেন, এ অর্জনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে শক্তিশালী করপোরেট সুশাসন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, সম্পদের গুণগত মান বজায় রাখা এবং দৃঢ় মূলধন ভিত্তি। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এসব বিষয়ে কোনো আপস করেনি ব্র্যাক ব্যাংক।
তবে তিনি মনে করেন, সর্বোচ্চ রেটিং অর্জনের চেয়ে তা ধরে রাখা আরও কঠিন। বাংলাদেশের বাস্তবতায় সম্পদের গুণগত মান বজায় রাখা, কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং বৈচিত্র্যময় ঋণ পোর্টফোলিও ধরে রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি এবং ব্যবসায়িক মন্দার মতো সামষ্টিক অর্থনৈতিক ঝুঁকিও ব্যাংকিং খাতকে প্রভাবিত করতে পারে।
সিইও জানান, ২০২৫ সালের শেষে ব্র্যাক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ছিল মাত্র ২ দশমিক ২৭ শতাংশ, যা দেশের ব্যাংকিং খাতে সর্বনিম্নগুলোর একটি। করপোরেট, কমার্শিয়াল, এসএমই, রিটেইল ও কৃষি খাতে বৈচিত্র্যময় ঋণ বিতরণ এবং কঠোর ঝুঁকি মূল্যায়ন নীতির কারণে এ সাফল্য এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিংকে ভবিষ্যতের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্রাহকদের শাখায় না গিয়েই অধিকাংশ সেবা দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করা হচ্ছে। ‘আস্থা’ অ্যাপের মাধ্যমে ডিজিটাল ব্যাংকিং সম্প্রসারণের পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তায় বড় বিনিয়োগ করা হয়েছে। মাল্টিফ্যাক্টর অথেনটিকেশন, ডেটা এনক্রিপশন, ডেটা লস প্রিভেনশন এবং আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে মূলধন ভিত্তি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সাইবার নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সমন্বিত প্রযুক্তি অবকাঠামো এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা গেলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আরও বাড়বে।
আগামী পাঁচ বছরের কৌশলগত পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি জানান, ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনা, আর্থিক সাক্ষরতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সম্প্রসারণ এবং বাজার হিস্যা ৫ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত করাই ব্র্যাক ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি প্রযুক্তি অবকাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও ডিজিটাল করা এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাও ব্যাংকটির অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।







