যুদ্ধবিদ্ধস্থ সিরিয়া কিংবা আফগানিস্তান নয় বরং বাংলাদেশেই আচমকা গুলির শব্দ। তাও আবার আমাদের সকলেরই আশেপাশে। বলছি PUBG, Free Fair Game এর কথা। বর্তমান সময়ে সবথেকে জনপ্রিয় দুটো মোবাইল গেমস্।
করোনা সংক্রমনের ফলে চলমান লকডাউনে বন্ধ রয়েছে সকল প্রকার শিক্ষাঙ্গন। যার পরিপ্রেক্ষিতে বেকার সময় অতিবাহিত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। গৃহবন্দী এই বেকার সময়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই আসক্ত হয়ে পরছে মুঠোফোনে।বাচ্চা থেকে বুড়ো সকলেই আক্রান্ত প্রায় মুঠোফোন অসুখে। বিশেষ করে সকলেই আজ PUBG, free fire এ আসক্ত।
এই গেমস গুলোর খেলোয়াড়রা নিজেদের level বৃদ্ধি করার জন্য টাকাও ঢালছেন। এবং ছাত্র বয়সেই টাকার যোগান শিক্ষার্থীরা অভিভাবকদের উপর চাপ সৃষ্টি করে। শুধু যে খরচ তা কিন্ত নয়, যেখানে ব্যায় সেখানে আয়ের উৎসও থাকে বটে। ইউটিউবে এ লাইভে স্টিমিং অথবা একটি গেমিং আইডি কে ডেভেলপ করে সেটি বিক্রির মাধ্যমেও হচ্ছে আয় করা যায়। বাইট কদিন আগেই দুবাইতে হয়ে গেলো PUBG Game এর world championship।
যেখানে অংশ নিয়ে ছিলো বাংলাদেশও। সেই সূত্র ধরে বাংলাদেশ গেমিং কমিউনিটিকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন অনেকেই। তবে মাত্রাধিক মুঠোফোনের ব্যবহার অবশ্যই উচিৎ নয় তাও স্বীকার করলেন নিজেরাই। বাইট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের এমন আসক্তি প্রচন্ড ঝূকিপূর্ন। এর জন্য সরকারি উদ্যোগ খুবই জরুরী বলে মনে করেন শিক্ষা বিশ্লেষকরা। বাইট অত্যাধিক হারে মোবাইল ফোন ব্যবহারে হতে পারে শারীরিক ও মানোসিক ক্ষতি। এছাড়াও PUBG, free fire এর আক্রমনাত্মক মনোভাব তরুণ সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে বলে দাবি করছেন মানোসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বাইট মুঠোফোনের বদৌলতে পুরো বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়।
তাইতো আমরা নিজেদের ছোটবেলাটাকেও হাতের মুঠোতেই বন্দী করে রেখেছি। শূন্য পরে আছে খেলার মাঠ। যার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হচ্ছে বিকৃত মনোভাবের ভবিষ্যৎ
অনলাইন ভিত্তিক গেমসকে ‘ইলেকট্রনিক ড্রাগস’ বলে আখ্যায়িত করেছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম। এমনকি চীনের স্থানীয় গেমিং কোম্পানি টেনসেন্টকে এজন্য সতর্কও করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
তবে গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশের পর টেনসেন্টসহ দেশটির বৃহৎ দুই গেমিং কোম্পানির শেয়ারের মূল্যে দরপতন ঘটেছেন।
সম্প্রতি অনলাইন গেমসকে ইলেকট্রনিক ড্রাগস উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশিত হয় চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া’তে। পরবর্তীতে সেটি চীন সরকার নিয়ন্ত্রিত আরেক মিডিয়া ইকোনমিক ইনফরমেশন ডেইলি’তে প্রকাশিত হয়।
এমন সংবাদের পরেই, টেনসেন্ট এবং নেটইজের শেয়ারের মূল্য ১০ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যায়। এরমধ্যে হংকং, চীনের মূল অংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারে নিবন্ধিত থাকা টেনসেন্ট সকল শেয়ার বাজারেই তার দর হারায়।
ইকোনমিক ইনফরমেশন ডেইলি’তে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের শিশু-কিশোররা টেনসেন্ট মালিকানাধীন ‘অনার অব কিংস’ নামের গেমসে দিনে ৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ব্যয় করে। বিষয়টি মাদক বা ড্রাগসের মতো।
এছাড়াও চীনের জন্মহার কমে যাওয়ার জন্য অনলাইন ও ডিজিটাল গেমসকে দায়ী করেছেন দেশটির অনেক বিশেষজ্ঞ। তারা বলছেন, সাম্প্রতিককালের এক জরিপ অনুযায়ী, চীনে বর্তমানে জন্মহার সাত দশকের মধ্যে সব থেকে কম। নাগরিকদের একটি বড় অংশই গেমসের মধ্যে বুদ হয়ে থাকেন।
রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে গেমিং কোম্পানিগুলো। টেনসেন্ট জানিয়েছে, অনার অব কিংস গেমসে যেন শিশুদের প্রবেশাধিকার আরো সীমিত করা যায় এবং কীভাবে গেমসে তাদের দীর্ঘসময় না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করবেন তারা। অনার অব কিংস এর পর, প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য গেমসেও বিষয়টি লাঘব করবেন তারা।
প্রসঙ্গত, আরেক বিতর্কিত গেম পাবজির মালিকানা প্রতিষ্ঠানও টেনসেন্ট।







