চট্টগ্রাম নগরের আগামী ৩০ বছরের পরিকল্পিত উন্নয়ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। তারাই ধারাবাহিকতায়, গত জুলাইয়ের পর গৃহীত এই মাস্টারপ্ল্যান ও পরিকল্পিত নগরায়ণ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সিডিএ বর্তমান চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে সিডিএ ইতিমধ্যে অবৈধ দখল ও ফুটপাত মুক্ত করতে মাঠে নেমেছে।
চট্টগ্রাম মহানগরীতে ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিধিমালা অনুযায়ী প্রতিটি বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবনে নির্দিষ্ট আয়তন অনুযায়ী গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা রাখা বাধ্যতামূলক। পার্কিং এরিয়াকে গুদাম বা দোকান হিসেবে ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

কিন্তু গত কয়েকদিনের অভিযানে নগরীর মূল সড়ক ও ফুটপাত দখল করে নির্মিত অবৈধ কাঠামো উচ্ছেদ এবং ভবনের নকশা বহির্ভূত ব্যবহার চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে নগরীর সিএসসিআর, ন্যাশনাল হাসপাতাল, পার্কভিউ, ইবনে সিনা হাসপাতাল এবং সিজিএস গ্রামার স্কুলসহ বেশ কিছু নামীদামী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পার্কিং না থাকা বা পার্কিংয়ের জায়গায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানো, আবাসিক এলাকায় স্কুল পরিচালনা এবং বাণিজ্যিক ভবনে ল্যাব ও হাসপাতাল পরিচালনার মতো নানা অনিয়ম অভিযানে ধরা পড়ে। পাঁচলাইশ ও প্রবর্তক মোড় এলাকাকে চট্টগ্রামের ‘মেডিকেল হাব’ বলা হয়। এখানে পার্কিং ছাড়া হাসপাতাল পরিচালনা করায় জরুরি অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে বিঘ্ন ঘটে, যা রোগীর জীবনঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, গোলপাহাড় মোড় থেকে পাঁচলাইশ অভিমুখী গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কে নিজস্ব পার্কিং সুবিধা না রেখেই গড়ে উঠেছে শেভরন হাসপাতাল, উৎসব সুপার স্টোর, আল হিদায়া ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও প্রোবেল একাডেমি

স্কুলসহ একাধিক সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। পার্কিং না থাকায় সেবাগ্রহীতা ও অভিভাবকদের গাড়ি মূল সড়কে পার্ক করতে হয়, যার ফলে প্রতিদিন সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক যানজট ও জনভোগান্তি। প্রশাসনে চোখে ধুলা দিয়ে রমরমা ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছেন এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো।
এ বিষয়ে সিডিএ কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন অমান্যকারী যত প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানই হোক না কেন, চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, যানজটমুক্ত ও আধুনিক তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে এই উচ্ছেদ ও তদারকি অভিযান ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।

নগর বিশ্লেষকরা ৩০ বছর মেয়াদী এই নতুন নগর পরিকল্পনাকে সাধুবাদ জানালেও কঠোর ও ধারাবাহিক নজরদারির তাগিদ দিয়েছেন। এসব অনিয়ম ও ভবন নির্মাণ বিধিমালা (বিল্ডিং কোড) না মেনে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি না দেখালে সিডিএ-র নেওয়া মাস্টারপ্ল্যান ভেস্তে যেতে পারে।







