দেশে জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আট কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং ৫ হাজার মেট্রিক টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত একাধিক প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।
সরকারের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গ্যাস ও এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে আপৎকালীন চাহিদা পূরণ, এলপিজি বাজারে সরকারের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে স্পিড মার্কেটিং করপোরেশন (স্পিড গ্রুপ) থেকে আন্তর্জাতিক ক্রয়ের মাধ্যমে ৫ হাজার (±৫ শতাংশ) মেট্রিক টন এলপিজি সংগ্রহের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, কেনা এলপিজিতে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ প্রোপেন এবং ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ বিউটেন থাকবে। সৌদি আরামকোর কনট্রাক্ট প্রাইস (সিপি) এর সঙ্গে প্রতি মেট্রিক টনে অতিরিক্ত ৯৭ মার্কিন ডলার সিএফআর (কষ্ট অ্যান্ড ফ্রেইট) ভিত্তিতে এ এলপিজি কেনা হবে।
এদিকে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব মোকাবিলায় জরুরি গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে মোট আট কার্গো এলএনজি কেনার চারটি পৃথক প্রস্তাবেও নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যভিত্তিক ব্ল্যাককিউব ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড থেকে দুই কার্গো, অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক গ্লোবাল ফুয়েল সাপ্লাইজ পিটিই লিমিটেড থেকে দুই কার্গো, মালয়েশিয়ার প্লেনটিটিউড এনার্জি এসডিএন বিএইচডি থেকে দুই কার্গো এবং ওমানভিত্তিক ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসি থেকে আরও দুই কার্গো এলএনজি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং এলপিজি বাজারে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।