চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেটের (ডিডিএন) কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা হলেও ২৪ ঘণ্টা পরও হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, ঘটনার দুই দিন আগে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের নাম ব্যবহার করে তাদের হুমকি দেন। তিনি এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। একই সঙ্গে কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরিচয় নিশ্চিত করার কথাও বলেন।
তবে পুলিশ বলছে, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য ও অন্যান্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্তে অভিযান চলছে।
ডিডিএনের নির্বাহী কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, “ঘটনার পরদিন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আমরা অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করে মামলা করেছি।”
তিনি বলেন, হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানের দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে। একটি ফোনের আইএমইআই নম্বর ও সিমের তথ্যও পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। এসব তথ্য ব্যবহার করে হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব বলে দাবি করেন তিনি।
নাসির উদ্দিন অভিযোগ করেন, পুলিশ অভিযান চালানোর কথা বললেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। তাদের দেওয়া সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজন হামলাকারীকে দেখা গেলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, “পাশের একটি ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, হামলাকারীরা একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে এসেছিল। আমরা নিজেরাই আরও ফুটেজ সংগ্রহ করে গাড়িটির নম্বর শনাক্তের চেষ্টা করছি। পুলিশ এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না।”
হামলার পর নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টার পুলিশ পোস্ট বসানোর আবেদন করা হলেও পুলিশ রাতে অবস্থান নিয়ে পরদিন বেলা ১১টা-১২টার দিকে চলে যায়। “এত বড় একটি হামলার পরও হামলাকারীরা শনাক্ত না হওয়ায় আমাদের উদ্বেগ বাড়ছে,” বলেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ নাকচ করেছেন চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন।
তিনি বলেন, “গত রাতে মামলাটি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এক সেকেন্ডের জন্যও আমরা বসে নেই। ধারাবাহিকভাবে অভিযান চলছে।”
ওসি জানান, মামলায় এখন পর্যন্ত কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি। তাই সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য ও অন্যান্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
অভিযানের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি এখন অভিযানে আছি। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়। প্রয়োজন হলে পরে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।”
এদিকে, অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশ কমিশনারের নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন—এ বিষয়ে সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) আমিরুল রশিদ বলেন, “তিনি বারবার পুলিশ কমিশনারের নাম ব্যবহার করছেন। বিষয়টি পরিষ্কার করা প্রয়োজন। কমিশনারের নাম ব্যবহার করলেই তার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক আছে—এমন নয়। কমিশনারের নির্দেশনায় তাকে গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।”
তিনি আরও বলেন, “তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমেও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
হামলার পর ডিডিএনের জন্য দেওয়া পুলিশি নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছে—প্রতিষ্ঠানটির এমন অভিযোগও নাকচ করেন আমিরুল রশিদ।
তিনি বলেন, “নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়নি। দৃশ্যমান পুলিশ সদস্য না থাকলেও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সব সময় প্রকাশ্যে দেখা যায় না। পুলিশি কৌশলে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং অভিযানও চলছে।”
বিদেশে অবস্থান করে ডেভিড ইমন চট্টগ্রামে অপরাধচক্র পরিচালনা করছেন—এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করে বিদেশি নম্বর ও বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। ফলে তদন্তে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তারপরও তাকে এবং তার গ্যাংয়ের সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এ ঘটনায় ডিডিএনের হিসাব কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম বাদী হয়ে চকবাজার থানায় অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে দুই কোটি টাকা চাঁদা না দেওয়ায় সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা ডিডিএনের কার্যালয়ে হামলা চালায়। এ সময় ব্যাপক ভাঙচুরের পাশাপাশি প্রায় ৩৫ লাখ টাকা লুট করা হয়।







