বঙ্গোপসাগর এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে সারাদেশে সক্রিয় রয়েছে মৌসুমি বায়ু। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ ২১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতের মধ্যে দেশের ১৭টি জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
একই সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, শুক্রবার রাত ১টার মধ্যে রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।তিনি আরও জানান, লঘুচাপের প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
কোথাও কোথাও হতে পারে মাঝারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ।আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় থাকা সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে মধ্য উত্তরপ্রদেশ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য বেশি থাকায় এবং মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।
শনিবার (১১ জুলাই) থেকে সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় অস্থায়ী দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল পর্যন্ত রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং অন্যান্য কয়েকটি বিভাগের অনেক এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও হতে পারে ভারি বর্ষণ। এ সময়ে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে দেশের সর্বোচ্চ ২১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এছাড়া টেকনাফে ২০৯, সাতক্ষীরায় ১৭৯, গোপালগঞ্জে ১৬৩, চট্টগ্রামের আমবাগানে ১৫৩, সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ১৩৮, বান্দরবানে ১৩১, টাঙ্গাইলে ১২৪, কক্সবাজারে ৯৯, বরিশালে ৯৪ এবং রাঙামাটিতে ৯২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচ দিনের শেষ দিকে দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা ধীরে ধীরে কমতে পারে।