টানা চতুর্থ দিনের মত ভারি বর্ষণ চলছে চট্টগ্রামে, কোনো বিরাম নেই। নগরীর বিভিন্ন এলাকা এখনো জলাবদ্ধ। তাতে চলাচলে পড়েছেন পথে বের হওয়া নগরবাসী।
বুধবার বেলা ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আবহাওয়া অফিসের পতেঙ্গা কেন্দ্রে ২৩৪ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয় বন্দর নগরীতে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজ সারাদিন এরকম ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকবে। এরপর আরো তিনদিন ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে। সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সংকেত বলবৎ আছে।”
এদিক সকাল থেকে মুষল বৃষ্টি ঝরছে নগরীতে। মঙ্গলবার নগরীর যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়েছিল তা রমধ্যে কিছু এলাকা থেকে পানি নামলেও অনেক এলাকা এখনো জলাবদ্ধ অবস্থায় আছে।
এদিন দুপুর পর্যন্ত বন্দর নগরীর আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, সিডিএ আবাসিক এলাকা, জুবিলী রোড, তিন পোলের মাথা, গোয়ালপাড়া, ষোলশহর ফরেস্ট গেট, বড় দিঘীর পাড়, মৌলভি পুকুর পাড়, ঈদগাঁ, কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকায় পানি দেখা গেছে।
আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় হাঁটু পানি ঠেলে পথচারীরা চলাচল করছেন, সেখানে রিকশা ছাড়া আর কোন যানবাহান দেখা যায়নি।
রিকশা চালাক মো. রবিউল বলেন, “অনেক পানি, রাস্তা দেখা যায় না। কোন জাগায় গর্ত তাও জানি না। পেটের দায়ে তবু রিকশা চালাইতে হচ্ছে।”
এদিকে ভারি বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সব জেলার বুধবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন বিদ্যালয় তাদের ক্লাস পরীক্ষা বাতিল করেছে।
এছাড়া দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এদিনের সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ভারি বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য ওঠানামা ব্যাহত হচ্ছে। মঙ্গলবার থেকেই চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে লাইটার জাহাজে (ছোট আকারের পণ্যবাহী জাহাজ) পণ্য ওঠানামা ব্যাহত হচ্ছিল। বুধবারও আবহাওয়ার পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকায় স্বাভাবিকভাবে পণ্য ওঠানামা করা যাচ্ছে না। তবে বন্দরের জেটিগুলোতে বড় জাহাজের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে মঙ্গলবার রেললাইনে পানি উঠায় দিনভর আটকে থাকার পর মধ্যরাতে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া সকালে কক্সবাজারগামী কক্সবাজার একপ্রেস ট্রেন রাজধানী থেকে চট্টগ্রাম এসে পৌঁছালেও রেললাইনে পানি থাকায় আর কক্সবাজারের পথে যেতে পারেনি। পরে সেই ট্রেনটির যাত্রাও বাতিল করা হয়।






