চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পের পরিচালক ও সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহসিন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নগরের বাকলিয়ার রাজাখালী আর্মি ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান
ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহসিন বলেন, ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেয় সেনাবাহিনী। প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খালের উন্নয়ন, ১৬৩ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল, ১১৪টি ব্রিজ কালভার্ট, ৬টি রেগুলেটর, ২১টি সিল্ট ট্র্যাপ, নতুন খাল খনন, ড্রেন সম্প্রসারণ এবং সড়ক নির্মাণের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পের ৩০টির কাজ ইতিমধ্যে শতভাগ শেষ হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক জানান, বাকি ছয়টি খালের মধ্যে পাঁচটির কাজ ৯৮ শতাংশ শেষ হলেও আগাম বর্ষার কারণে কিছু ফিনিশিং কাজ বাকি রয়েছে, যা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। অন্যদিকে বহুল আলোচিত হিজড়া খালের কাজের অগ্রগতি এখন ৬৮ শতাংশ। বর্ষা মৌসুমে খননকাজ চালালে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় কাজ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরে পুনরায় কাজ শুরু করে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে অবশিষ্ট রিটেইনিং ওয়াল, ব্রিজ এবং তিনটি সিল্ট ট্র্যাপের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, হিজড়া খালের প্রস্থ সাড়ে তিন মিটার থেকে বাড়িয়ে নয় মিটার এবং গভীরতা আড়াই মিটার থেকে চার থেকে ছয় মিটার করা হচ্ছে। এ জন্য ১২৭টি স্থাপনা অপসারণের প্রয়োজন ছিল, যার মধ্যে ১২০টি ইতিমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে এবং চলতি মাসেই বাকিগুলো অপসারণ করা সম্ভব হবে। এই কাজ শেষ হলে ইজরা (হিজড়া) খাল-সংলগ্ন এলাকায় অতিবৃষ্টিতেও আর জলাবদ্ধতা হবে না।
প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করে পরিচালক বলেন, পুরোনো নগরের ভেতরে দখল হয়ে যাওয়া খাল পুনরুদ্ধার, জমি অধিগ্রহণ, স্থাপনা অপসারণ এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হয়েছে, যা অত্যন্ত জটিল ছিল। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর খালগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে তার আগে এক থেকে দুই বছর যৌথভাবে কাজ করে সেনাবাহিনীর অভিজ্ঞতা ও কারিগরি দক্ষতা সিটি করপোরেশনকে হস্তান্তর করা হবে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি খাল ও ড্রেনে প্লাস্টিকসহ যেকোনো অপচনশীল বর্জ্য ফেলা থেকে নগরবাসীকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান।







