চট্টগ্রাম নগরীর নিম্নাঞ্চলে তিন ঘণ্টার অতিভারী বৃষ্টিতে হাঁটুপানি জমেছে। সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে সোমবার (৭ জুলাই) নগরের নিচু এলাকাগুলো রাস্তায় হাঁটুপানি ঠেলে চলাচল করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই তিন ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৬৪ দশমিক ৪ মিলিমিটার। আর রাত ৯টার আগের ২৪ ঘণ্টায় পতেঙ্গায় মোট বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে ২৪৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার।
রাত সাড়ে ১০টায় পূর্বাভাস কর্মকর্তা মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, আগামীকালও এই বৃষ্টি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে নিম্নাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতা আর পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জ, চকবাজার, নয়ারহাটসহ নগরীর একাধিক নিচু এলাকা সন্ধ্যার বৃষ্টিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী বলেন, বৃষ্টির পানি বের হওয়ার সময় ড্রেনের মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কিছু এলাকায় রাস্তা নিচু, ড্রেন সরু এবং বাড়িঘর তুলনামূলক উঁচুতে হওয়ায় সেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা বেশি দেখা দেয়। এটি কাঠামোগত সমস্যা হওয়ায় স্বল্পমেয়াদে সমাধান সম্ভব হচ্ছে না। তবে, এই জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসনে সিটি করপোরেশনের বেশ কিছু পরিকল্পনা ইতোমধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছেÑ যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন জানিয়েছেন, প্রকল্প এলাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখতে প্রকল্প পরিচালক ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলো তদারকি করা হয়েছে।
এদিকে অতি ভারী বর্ষণে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের সর্তকতা জারির পর নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলো থেকে বসতি স্থাপনকারীদের সরাতে মাইকিং করছে স্থানীয় প্রশাসন। সোমবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ থানাধীন ঝিল এলাকা, বিজয়নগর ও শান্তিনগর পাহাড়, বেলতলী ঘোণা, মতির্ঝণা টাংকির পাহাড়, আমিন জুট মিল সংলগ্ন পাহাড়, ঢেবার পাড়, আমবাগান, দক্ষিণ পাহাড়তলী মৌজায় সেকান্দর কলোনি, ঠান্ডাছড়ি ও সন্দ্বীপ কলোনি এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। মাইকিংয়ের পাশাপাশ শনিবার রাত থেকেই আটটি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, গত রবিববার রাত থেকে বৃষ্টির মধ্যেও মাঠে থেকে মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িতে সরাসরি গিয়ে বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
এদিকে চট্টগ্রামে এখনো কারো মৃত্যু না হলেও প্রবল বর্ষণে পাহাড়ধসে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ও কক্সবাজার শহরে অন্তত ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। রবিবার রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত উখিয়ার বালুখালী, কুতুপালং ও জামতলী রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের চারটি স্থানে এবং কক্সবাজার শহরের সাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে।







