ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ জিততে না পারার বিষয়টিকে বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগিজ তারকার মতে, ২০১৬ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের অর্জনও বিশ্বকাপের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।
সোমবার স্পেনের কাছে শেষ ষোলোতে ১-০ গোলে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় পর্তুগাল। যোগ করা সময়ে মিকেল মেরিনোর একমাত্র গোলে হেরে টুর্নামেন্ট শেষ করে রোনালদোর দল। ম্যাচের পর ৪১ বছর বয়সী এই তারকা নিশ্চিত করেন, এটিই ছিল তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ।
ছয়বার বিশ্বকাপে খেলেও শিরোপার দেখা পাননি রোনালদো। ফলে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফিটি জয়ের স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল তার।
এই বাস্তবতা তাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার বিতর্কে লিওনেল মেসির তুলনায় পিছিয়ে দেবে বলেও মনে করছেন অনেকেই। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর মেসির পক্ষে সেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
তবে রোনালদোর দাবি, বিশ্বকাপ জিততে না পারায় তার ক্যারিয়ার অসম্পূর্ণ থাকছে না। তার মতে, ২০১৬ সালে পর্তুগালের হয়ে জেতা ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপও বিশ্বকাপের শিরোপার মতোই মূল্যবান।
রোনালদো বলেন, ‘আমি পর্তুগালের হয়ে তিনটি শিরোপা জিতেছি। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আগে পর্তুগাল জাতীয় দল একটি শিরোপাও জেতেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় দলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্জন ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ। সত্যি বলতে, আমার কাছে এর গুরুত্ব বিশ্বকাপ শিরোপার সমান।’
বিদায়ের মুহূর্তেও নিজের কোনো আক্ষেপ নেই বলে জানান পর্তুগিজ অধিনায়ক।
তিনি বলেন, ‘আমি নির্ভার মন নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। পর্তুগালের জন্য আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়েছি। আগামীকাল নতুন একটি দিন আসবে, জীবনও চলতে থাকবে।’
তবে, ম্যাচ শেষে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি রোনালদো। চোখে অশ্রু নিয়ে গ্যালারিতে থাকা পর্তুগিজ সমর্থকদের উদ্দেশে হাততালি দেন এবং হাত নেড়ে বিদায় জানান তিনি।
ম্যাচের আগেই রোনালদো ঘোষণা দিয়েছিলেন, এটিই হবে তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। ম্যাচ শেষে সেই সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করলেও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেননি তিনি।
রোনালদো বলেন, ‘হ্যাঁ, এটিই ছিল আমার শেষ বিশ্বকাপ। এখন পরিবারের সঙ্গে কিছু সময় কাটাতে চাই। সবকিছু নিয়ে ভাবার জন্য সময়ও প্রয়োজন। তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেব না।’
আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক রোনালদো। পর্তুগালের জার্সিতে ২৩৩ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ১৪৬।







