আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে এই সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। আদালত আগামী ১৩ জুলাই পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন জানান, আজ আদালতে দুদক পক্ষের ৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়েছে। এর আগে, গত ৫ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান আদালতে এই অভিযোগপত্র জমা দেন।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন—সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ (৫৬), তাঁর স্ত্রী ও ইউসিবির সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান (৪৬), সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী (৪৬) ও রোকসানা জামান চৌধুরী (৫৬)। এছাড়া ইউসিবির সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর, সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরীসহ ব্যাংকের বেশ কয়েকজন সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জাবেদের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই মামলার আসামি।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজিয়ে ইউসিবি থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ তাঁর কর্মচারীদের মাধ্যমে সেই টাকা তুলে হুণ্ডির সাহায্যে বিদেশে পাচার করেন এবং সম্পত্তি কেনেন।
২০২৫ সালের ২৪ জুলাই জাবেদ ও তাঁর স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করেছিল দুদক। তদন্তে আরও ৭ জনের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় মোট ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তদন্তকালে মূল ৩১ আসামির মধ্যে ইউসিবির সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল এবং জাবেদের কর্মচারী কাজী মোহাম্মদ দিলদার আলম মারা যাওয়ায় তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। মামলায় মোট ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
পরের বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটি গম, হলুদ, ছোলা ও মটর আমদানির কথা বলে ১৮০ দিনের জন্য টাইম লোনের আবেদন করেন। ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ কোনো ধরনের ‘যাচাই-বাছাই না করে’ ঋণ অনুমোদন করে।
ঋণের টাকাগুলো ‘নাম সর্বস্ব’ চারটি প্রতিষ্ঠান আলফা ট্রেডার্স, ক্লাসিক ট্রেডার্স, মডেল ট্রেডিং ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং নামে চারটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসেবে পে অর্ডারের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়। পরে যা নগদে উত্তোলন ও স্থানান্তর করা হয়।
পরবর্তীতে এসব টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে সম্পত্তি ক্রয় এবং জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট সিমেন্টে ও আরামিট থাই অ্যালমুনিয়াম লিমিটেডের হিসেবে জমা করে দায় সমন্বয় করা হয় বলে অভিযোগ করেছে দুদক।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে।






