সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নতুন গ্যাস ক্ষেত্রগুলো আয়েয়ারওয়াদি ও তানিনথারই অঞ্চলের অফশোর এলাকায় অবস্থিত। প্রাথমিক মূল্যায়নে এসব ক্ষেত্রে মোট প্রায় ১০৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) প্রাকৃতিক গ্যাস মজুত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বড় গ্যাস ক্ষেত্রটি তানিনথারইয়ের গভীর সমুদ্র এলাকায় অবস্থিত। সেখানে প্রায় ৯৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার সম্ভাব্যতা প্রায় ৯০ শতাংশ। অন্যদিকে আয়েয়ারওয়াদি অঞ্চলের নতুন গ্যাস ক্ষেত্রে প্রায় ১৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস থাকার সম্ভাবনা উল্লেখ করেছে কর্তৃপক্ষ।
সরকারের দাবি, নতুন আবিষ্কৃত ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে এমন একটি ব্লক রয়েছে, যেখানে পূর্ববর্তী এক প্রতিবেদনে প্রায় ৯৪ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুতের কথা বলা হয়েছিল। আন্দামান সাগরের দক্ষিণ তানিনথারই উপকূলের কাদান দ্বীপসংলগ্ন এই ব্লকটি প্রায় ১৩ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
২০১৫ সালে সিঙ্গাপুরভিত্তিক কানাডিয়ান ফরসাইট গ্রুপ মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস সংস্থা এমওজিইয়ের সঙ্গে এই ব্লকের জন্য উৎপাদন-বণ্টন চুক্তি (প্রোডাকশন শেয়ারিং এগ্রিমেন্ট) স্বাক্ষর করে।
২০১৭ সালের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মিয়ানমারের মোট বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত এই খাত থেকে আসতে পারে। সে সময় সম্ভাব্য গ্যাস মজুতের মূল্য প্রায় ২৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তবে প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তাও রয়েছে। কারণ মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস সংস্থা এমওজিই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
সূত্র: দ্য ইরাবতী







