চট্টগ্রামে স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সরগরম পরিবেশ তৈরি হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনও ভোট আয়োজনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে।
চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলা, ১৫ পৌরসভা ও ১৯৪ ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীরা নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন নিয়ে নানা প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী ইতোমধ্যে নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে সভা-সমাবেশ ও মতবিনিময় কার্যক্রম শুরু করেছেন। উপজেলা সদর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত নির্বাচনী আলোচনা এখন বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্ষা মৌসুম শেষে আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। সরকারের পরিকল্পনায় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচন ধাপে ধাপে সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
এদিকে নির্বাচন কমিশনও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে। চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন উপজেলার ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন, কেন্দ্র তালিকা হালনাগাদ এবং ভোটার তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।
চট্টগ্রামের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের পাশাপাশি ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজও চলমান রয়েছে।
বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলায় ১৫টি উপজেলা, ১৫টি পৌরসভা এবং ১৯৪টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনকে ঘিরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধি-বিধানেও বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, ইভিএম ব্যবহার না করা, পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা বাতিল, প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে নির্দলীয়ভাবে নির্বাচন আয়োজন।
এছাড়া অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ বাতিল, ফেরারি আসামিদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ভোটার স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহারসহ আরও কিছু সংস্কার বিবেচনায় রয়েছে। সেনাবাহিনী মোতায়েন না করার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সব মিলিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে চট্টগ্রামে রাজনৈতিক তৎপরতা দিন দিন বাড়ছে। নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাব্য সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থী, রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচন প্রশাসনের প্রস্তুতিও আরও জোরদার হচ্ছে।







