ব্যবসায়িক মন্দার মুখে পড়া জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ চেইন ‘পিৎজা হাট’ ২৭০ কোটি ডলারে বিক্রি করে দিচ্ছে এর মূল প্রতিষ্ঠান ইয়াম! ব্র্যান্ডস। তীব্র প্রতিযোগিতা এবং মান্ধাতা আমলের আউটলেটগুলোর কারণে দীর্ঘদিন ধরে পিৎজা হাট ব্যবসায়িক লোকসানের মুখে রয়েছে।
গত মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের বিনিময়ে বিশ্বখ্যাত পিৎজা চেইন পিৎজা হাটের আন্তর্জাতিক ব্যবসা অধিগ্রহণ করতে যাচ্ছে প্রাইভেট ইকুইটি প্রতিষ্ঠান লংরেঞ্জ ক্যাপিটাল। তবে এই চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে মূল ভূখণ্ড চীনের কার্যক্রম।
কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চীনের পিৎজা হাট ব্যবসা আলাদা একটি চুক্তির আওতায় প্রায় ১২০ কোটি ডলারে কিনে নেবে ইয়াম চায়না হোল্ডিংস।
এক বিবৃতিতে ইয়াম! ব্র্যান্ডসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্রিস টার্নার বলেন, ‘লংরেঞ্জ এবং ইয়াম চায়না-র অধীনে পিৎজা হাট ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য একটি ভালো অবস্থানে থাকবে। এই নতুন মালিকানা রেস্তোরাঁ খাতে গভীর অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে।’
এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইয়াম! ব্র্যান্ডস জানিয়েছিল, তারা পিৎজা হাট বিক্রি করার কথা ভাবছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৫০টি আউটলেট বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে।
১৯৫৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসের উইচিটায় পিৎজা হাটের যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরে ১৯৭৭ সালে পেপসিকো এই চেইনটি কিনে নেয়। ১৯৯৭ সালে পেপসিকো তাদের রেস্তোরাঁ বিভাগটিকে আলাদা করে ফেলে, যা পরবর্তীতে ইয়াম! ব্র্যান্ডস নামে আত্মপ্রকাশ করে। ইয়াম! ব্র্যান্ডসের অধীনে পিৎজা হাট ছাড়াও জনপ্রিয় কেএফসি এবং ট্যাকো বেলের মতো ব্র্যান্ড রয়েছে।
আউটলেটগুলোতে ক্রমাগত বিক্রি হ্রাস পাওয়ার পর গত নভেম্বর মাসে পিৎজা হাটের বিষয়ে কৌশলগত পর্যালোচনা শুরু করেছিল ইয়াম! ব্র্যান্ডস।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবালডাটা-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিল সন্ডার্স এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইয়ামের ব্যবসায়িক পোর্টফোলিওতে দীর্ঘদিন ধরেই তুলনামূলকভাবে দুর্বল ব্র্যান্ড হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে পিৎজা হাট।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘ব্র্যান্ডটিকে পুনরুজ্জীবিত করার এবং দুর্বল পারফরম্যান্স করা আউটলেটগুলো বন্ধ করার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এটি ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, এই বিভাগটিকে আবার প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরিয়ে আনতে যে পরিমাণ বিনিয়োগ ও ধৈর্যের প্রয়োজন, ইয়াম তা দিতে প্রস্তুত নয়।’
নিল সন্ডার্স মনে করেন, পিৎজা হাট বিক্রি করে দেওয়ার ফলে ইয়াম! ব্র্যান্ডস এখন তাদের অন্য যেসব ব্র্যান্ডের বিক্রি ভালো, সেগুলোর ওপর বেশি মনোযোগ দিতে পারবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকির লুইসভিল-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইয়াম! ব্র্যান্ডস আশা করছে, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে এই বিক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এদিকে এই বিক্রির খবর প্রকাশের পর পুঁজিবাজার খোলার আগে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।







