ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিচুক্তির শর্ত মেনে চলে, তাহলে দেশটি পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল দেওয়া হবে—এমন খবর নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরান আর কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করতে সম্মত হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে—এমন খবর ভুয়া, এটি ‘ডামোক্র্যাটরা’ ছড়িয়ে থাকতে পারে!!!”
এর আগে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “আমরা জব্দ থাকা তহবিল ছাড়, নিষেধাজ্ঞা শিথিল, ইরান পুনর্গঠনে বড় আকারের ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিলের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছি। এসবই নির্ভর করবে তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর।”
সোমবার সকালে সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সও এ সম্ভাবনার কথা প্রায় নিশ্চিত করেন। ইরান পুনর্গঠনে সম্ভাব্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তারা যদি নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে, তাহলে গালফ কোস্ট কোয়ালিশনের অর্থায়নে এ ধরনের সুবিধা তারা পেতে পারে।”
ভ্যান্স মূলত গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের কথা বুঝিয়েছেন। এ জোটের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
এর আগে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস ইরানের কর্মকর্তা ও এক কূটনীতিকের বরাতে জানায়, চুক্তিতে ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন বিনিয়োগ তহবিলের একটি ধারা রয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সোমবার সাংবাদিকদের জানান, সপ্তাহান্তে ডিজিটালি সই হওয়া সমঝোতা স্মারকটি চুক্তির কেবল প্রথম ধাপ। প্রকৃত কারিগরি আলোচনা চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে শুরু হবে এবং তার নেতৃত্ব দেবেন ভ্যান্স।
সপ্তাহান্তে সমঝোতা স্মারকে সই হওয়ার আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির আওতায় তেহরান কোনো “নগদ অর্থ” পাবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ভ্যান্স লিখেছিলেন, “প্রথমত, ইরানিরা কোনো নগদ অর্থ পাচ্ছে না। শুধু চুক্তি সই করা বা বৈঠকে অংশ নেওয়ার বিনিময়ে কোনো তহবিল ছাড় করা হচ্ছে না।”
তিনি আরও লিখেছিলেন, “চুক্তিটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উদ্বেগ অগ্রাধিকার পায়। আর ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান যদি তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করে, তাহলে অর্থনৈতিক সুবিধা তাদের এবং পুরো অঞ্চলের জন্যই দেওয়া হবে।”






