পশ্চিমা বিশ্বের একের পর এক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে কার্যত উপেক্ষা করে রাশিয়ার সঙ্গে আর্থিক ও ব্যাংকিং সহযোগিতা আরও গভীর করার পথে হাঁটছে ইরান। সেই লক্ষ্যেই বিশেষ অর্থনৈতিক ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নিতে মস্কো সফরে যাচ্ছেন ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, হেম্মাতির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। সফরে দুই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের অর্থায়ন সহজ করা এবং ডলারনির্ভর লেনদেনের বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধতার মুখে থাকা রাশিয়া ও ইরান এখন নিজেদের মধ্যে বিকল্প আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশ স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য, বিকল্প আন্তঃব্যাংক বার্তা আদান-প্রদান ব্যবস্থা এবং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অর্থ স্থানান্তরের নতুন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে।
রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সহযোগিতা শুধু ব্যাংকিং খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। জ্বালানি, পরিবহন, অবকাঠামো, বিনিয়োগ এবং বহুপাক্ষিক অর্থনৈতিক প্ল্যাটফর্মেও সম্পর্ক দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। সম্প্রতি মস্কো প্রকাশ্যে ইরানের ব্রিকস উন্নয়ন ব্যাংকে অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক ঘনিষ্ঠতার আরেকটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার বাইরে বিকল্প আর্থিক নেটওয়ার্ক তৈরির ক্ষেত্রে রাশিয়া ও ইরানের স্বার্থ এখন অনেকটাই অভিন্ন। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্যায়ের এই আলোচনা ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
উল্লেখ্য, আবদোলনাসের হেম্মাতি সম্প্রতি দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলার মধ্যেই তিনি দায়িত্ব নেন। বর্তমানে ইরান সরকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং বৈদেশিক আর্থিক সম্পর্ক সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
এদিকে কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ ও আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ে যে আলোচনা চলছে, তার সমান্তরালে রাশিয়ার সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক শক্তিশালী করে তেহরান নিজের দরকষাকষির অবস্থান আরও মজবুত করতে চাইছে।
বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান বাস্তবতায় মস্কো-তেহরান অক্ষের এই ঘনিষ্ঠতা শুধু আঞ্চলিক অর্থনীতিতেই নয়, আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ সমীকরণেও নতুন প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।







