‘আমদানি নীতি আদেশ, ২০২৬-২০২৯’-এর খসড়া পরিমার্জনের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে সরকার।
এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন সম্প্রতি জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাণিজ্যমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অন্যান্য সদস্যরা হলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং কৃষি ও মৎস্য-প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী।
কমিটির প্রধান দায়িত্ব হবে ‘আমদানি নীতি আদেশ, ২০২৬-২০২৯’-এর খসড়া পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় পরিমার্জন করে সরকারের কাছে সুপারিশ প্রদান করা।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কমিটি প্রয়োজনে অতিরিক্ত সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সভা আয়োজন করবে।
এছাড়া কমিটির সকল প্রশাসনিক ও সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কমিটি ও অর্থনৈতিক) মো. হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের আমদানি ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন আমদানি নীতি আরও যুগোপযোগী ও কার্যকর করার পথ সুগম হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আমদানি নীতির গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য অস্থিরতা, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ, সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং দেশীয় শিল্প সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে একটি যুগোপযোগী আমদানি নীতি প্রণয়ন সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
তাদের মতে, নতুন নীতিতে একদিকে যেমন প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, শিল্পযন্ত্র ও উৎপাদন উপকরণ আমদানির সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসী পণ্যের আমদানি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে। একই সঙ্গে দেশীয় উৎপাদন, কৃষি খাত এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার বিষয়গুলোও নীতিমালায় প্রতিফলিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমদানি নীতি শুধু বাণিজ্য খাত নয়, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, খাদ্যনিরাপত্তা এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলে। ফলে নতুন নীতি প্রণয়নের সময় সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক লক্ষ্য বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে, উচ্চপর্যায়ের এই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রণীত নতুন আমদানি নীতি দেশের বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল, প্রতিযোগিতামূলক এবং টেকসই করতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আমদানি ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।







