আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান আমদানির ধাক্কায় বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে ভারত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশটির সরকার ডিজেল ও পেট্রোলসহ সব ধরনের জ্বালানি ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে।
একই সঙ্গে দেশটির বাণিজ্য ও বাজেট ঘাটতি রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে যাওয়ায় ভারতের অর্থনীতি এখন গভীর সংকটের মুখোমুখি বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ও ব্যবহারকারী দেশ ভারত তাদের প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশই বাইরের দেশ থেকে আমদানি করে। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় ভারতের আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি ব্যবহারে নতুন বিধিনিষেধ বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে দেশটির সরকার।
অর্থনীতিবিদেরা সতর্ক করে বলেছেন, জ্বালানি তেলের ওপর এই কড়াকড়ির কারণে ভারতের পরিবহন, শিল্প উৎপাদন এবং কৃষি খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর করে দেবে।
পাশাপাশি, বিপুল পরিমাণ আমদানি ব্যয়ের কারণে ভারতের চলতি হিসাবের ঘাটতি এবং বাজেট ঘাটতি আশঙ্কাজনকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে, যা দেশটির মুদ্রা রুপির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।
ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, এই দ্বিমুখী সংকট ভারতের অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতিকে আরো উসকে দিতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং অর্থনীতি চাঙা রাখতে ভারতের নীতিনির্ধারকেরা এখন জরুরি ভিত্তিতে রাজস্ব ও মুদ্রানীতি পুনর্মূল্যায়ন করছেন।
সূত্র: ব্লুমবার্গ







