চট্টগ্রাম উপকূলে ভাঙার জন্য আনা প্রায় ৬১ কোটি টাকা মূল্যের বিশাল কেমিক্যাল ট্যাংকার ‘এমটি মেমেই (MT MAYMEI)’ শেষ পর্যন্ত ফেরত নেওয়া হচ্ছে। জাহাজটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসএনএ কর্পোরেশন জানিয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা জাহাজটির ডেলিভারি নেয়নি এবং এর মূল্যও পরিশোধ করেনি। ফলে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান নিজ দায়িত্বে জাহাজটি বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।
বুধবার এক লিখিত ব্যাখ্যায় এসএনএ কর্পোরেশন জানায়, স্ক্র্যাপ জাহাজ হিসেবে ‘এমটি মেমেই’ ক্রয়ের লক্ষ্যে তারা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান Offshore Recycling Fund LLC-এর সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে ঋণপত্র (এলসি) খোলে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, চুক্তি সম্পাদনের সময় জাহাজটির ওপর কোনো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল না। তবে পরবর্তীতে তারা জানতে পারে, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট জাহাজটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
এসএনএ কর্পোরেশন আরও জানায়, নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানার পর তারা জাহাজটির ডেলিভারি গ্রহণ করেনি এবং আমদানির বিপরীতে কোনো অর্থও পরিশোধ করেনি। একই সঙ্গে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় মূল্য পরিশোধের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হয়নি।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, “জাহাজটির ডেলিভারি নেওয়া হয়নি এবং মূল্যও পরিশোধ করা হয়নি। ফলে জাহাজটি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান নিজ দায়িত্বে বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাবে। এ বিষয়ে আমাদের কোনো দায়-দায়িত্ব নেই।”
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম উপকূলে ভাঙার জন্য আনা ‘মেমেই’ নামের কেমিক্যাল ট্যাংকারটির মূল্য প্রায় ৬১ কোটি টাকা। জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানোর কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনের অভিযোগে এটিকে কালো তালিকাভুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে জাহাজটি চট্টগ্রামের কোনো শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় জাহাজটি মূল মালিকের কাছে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করায় ক্ষোভ ও অসন্তোষতা জানিয়েছে মালিকপক্ষ।







