এবারের ঈদুল আজহার ছুটির ১৩ দিনে সড়ক, নৌ ও রেলপথে দুর্ঘটনায় মোট ৩০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সড়ক দুঘর্টনায় ২৮১ জন, নৌ দুর্ঘটনায় ৮ জন এবং রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গত ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত ঈদের ছুটিতে এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে রোড সেইফটি ফাউন্ডেশন। খবর বিবিসি বাংলা।
সংগঠটি বলছে, ঈদুল আজহার ছুটির সময় ১৩ দিনে মোট ২৯২টি সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনায় ২৮১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন নারী এবং ৪৮ জন শিশু রয়েছে। আর আহত হয়েছেন ৮৩৭ জন। এসব দুর্ঘটনার মধ্যে ৪৮ দশমিক ২৮ শতাংশই ছিল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। ১৪১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১২৪ জন নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় ৩৭ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ১৩ দশমিক ১৬ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৩৩ জন, অর্থাৎ ১১ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
এছাড়াও ঈদের ছুটির এ সময়ে ১৩টি নৌপথ দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত এবং ১৫ আহত হয়েছে। সেই সঙ্গে মারা গেছে কোরবানির ২৪টি গরু। আর ২২টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত ও ৯ জন আহত হয়েছে।
দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১২৪ জন (৪৪.১২%), বাসযাত্রী ২১ জন (৭.৪৭%), ট্রাক-কভার্ড ভ্যান-পিকআপ-ট্রলি আরোহী ৩২ জন (১১.৩৮%), প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স আরোহী ১১ জন (৩.৯১%), থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান) ৪৮ জন (১৭.০৮%) এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের (নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র) ৮ জন (২.৮৪%) যাত্রী নিহত হয়েছে।
দুর্ঘটনাগুলোর ৭৩টি (২৫%) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১২৭টি (৪৩.৪৯%) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৩৮টি (১৩%) পথচারীকে চাপা বাধাক্কা দেওয়া, ৪২টি (১৪.৩৮%) যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ১২টি (৪.১০%) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
প্রতিবেদন বলছে, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। ৯৫টি দুর্ঘটনায় মারা গেছে ১০১ জন। সবচেয়ে কম ৯টি দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছে সিলেট বিভাগে। একক জেলা হিসেবে ফরিদপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি ১৯টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত হয়েছে।







