বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার আজ পদত্যাগ করেছেন।
কমিশনার মো. সাইফউদ্দিন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) তাদের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই ব্যক্তিগত কারণেই পদত্যাগ করেছি।’
বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পদত্যাগ পত্র জমা দেন তারা।
সংস্থাটির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পাশাপাশি যে চারজন কমিশনার পদত্যাগ করেছেন, তারা হলেন—মো. মহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও মো. সাইফউদ্দিন।
পদত্যাগের পর যা বললেন বিএসইসি চেয়ারম্যান
পদত্যাগের পর দেওয়া এক বার্তায় রাশেদ মাকসুদ বলেন, ‘বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে গত ২১ মাস দায়িত্ব পালনের পর, এখন ব্যক্তিগত কাজে মনোযোগ দিতে আমি এই সরকারি পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এক চরম অস্থির সময়ে এই নেতৃত্বের দায়িত্ব নিয়েছিলাম এবং দায়িত্ব নিয়েই আইনি কাঠামো ও বাজারের শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যাপক সংস্কারের কাজে হাত দিয়েছিলাম। এই অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা পাঁচটি বিধিমালার (মার্জিন, আইপিও, মিউচুয়াল ফান্ড, ডেট সিকিউরিটিজ এবং হুইসেলব্লোয়ার) প্রজ্ঞাপন জারি করেছি। এ ছাড়া সম্প্রতি করপোরেট সুশাসন, অডিট এবং করপোরেট পুনর্গঠন—এই তিনটি বিধিমালা বা নির্দেশিকার খসড়া জনমতের জন্য প্রকাশ করেছি।’
রাশেদ মাকসুদ আরও জানান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) মাধ্যমে প্রণয়নের জন্য ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন’ এবং ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন’-এর খসড়াও তৈরি করেছেন তারা।
বাজারের শৃঙ্খলা ফেরানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছিলাম এবং নিয়মকানুন মানা ও তা প্রয়োগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছি। আমরা সব ধরনের আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক হস্তক্ষেপ দূর করেছিলাম। আইনের শাসন ও নিয়মিত স্টেকহোল্ডারদের (সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো) সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে বাজার, মধ্যস্থতাকারী এবং ইস্যুয়ারদের (শেয়ার ছাড়ার প্রতিষ্ঠান) স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিয়েছি।’
বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা ও শিক্ষার প্রসারেও ব্যাপক অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন তিনি। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে ছোট ভিডিও প্রতিযোগিতা এবং প্রশাসনের তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করার মাধ্যমে এই অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।
বার্তায় সব সহকর্মী, স্টেকহোল্ডার এবং সরকারকে তাদের সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান রাশেদ মাকসুদ।







