রানের দক্ষিণাঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনী বিমান হামলা চালানোর পর আজ মঙ্গলবার এশিয়ার বাজারে শুরুর দিকের লেনদেনে তেলের দামে আবারও বড় উল্লম্ফন হয়েছে। অথচ মাত্র একদিন আগেই আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায়, দ্রুতই শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায়—তেলের দাম নাটকীয়ভাবে হ্রাস পায়। তারপরে এই হামলার ঘটনা নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাকে উস্কে দিয়েছে।
সোমবারে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ শতাংশ ধসের পর— আজ প্রতি ব্যারেলে ২ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেড়ে ৯৮ দশমিক ৩৯ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়। মার্কিন ডব্লিউটিআই ফিউচার্সের দামও বেড়েছে; তবে যুক্তরাষ্ট্রে ‘মেমোরিয়াল ডে’র ছুটির কারণে কোনো আনুষ্ঠানিক সেটেলমেন্ট বা রফাদফা না থাকায় – সপ্তাহের শুরুর তুলনায় এটি ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে ৯১ দশমিক ৭৯ ডলারে অবস্থান করছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ইরানি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তাদের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং নৌ-মাইন স্থাপনের চেষ্টায় লিপ্ত থাকা বেশকিছু ইরানি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্টকমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “ইরানি বাহিনীর পক্ষ থেকে আসা সম্ভাব্য হুমকি থেকে আমাদের সেনাদের রক্ষা করতেই” এই সুনির্দিষ্ট হামলাগুলো চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানি গণমাধ্যমগুলো সোমবার সন্ধ্যায় উপকূলীয় শহর বন্দর আব্বাসের আশপাশে বিকট বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে, তবে তারা এই বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কোনো উৎস বা কারণ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করেনি।
কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই আকস্মিক হামলা
শান্তি আলোচনা যখন বেশ ইতিবাচক অগ্রগতির দিকে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই এই হামলা চালালো যুক্তরাষ্ট্র। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করার উদ্দেশ্যে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোমবারই কাতারে আসেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবারই চুক্তিটি চূড়ান্ত হতে পারে বলে একটি আভাস দিয়েছিলেন, যদিও যেকোনো স্থায়ী সমাধানের জন্য এখনো এক মাসেরও বেশি সময় বাকি রয়েছে। কারণ বর্তমান আলোচনায় মূলত সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ওপরই বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জাপানি সংবাদমাধ্যম ‘নিক্কেই’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত কাঠামোর অধীনে ইরান ৩০ দিনের মধ্যে হরমূজ প্রণালি থেকে সমস্ত মাইন অপসারণ করতে রাজি হতে পারে। এর ফলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো আবার আগের মতো মুক্তভাবে চলাচল করতে পারবে এবং যুদ্ধের সময় ইরানের আরোপিত বিতর্কিত ট্রানজিট ফি আদায়ের নিয়মও বাতিল হবে।
চুক্তির এই আশ্বাসের পাশাপাশি, সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের সংখ্যাও কিছুটা বেড়েছে। জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটায় দেখা গেছে, সম্প্রতি বেশ কয়েকটি এলএনজিবাহী ট্যাঙ্কার পাকিস্তান, চীন এবং ভারতের উদ্দেশ্যে প্রণালিটি সফলভাবে অতিক্রম করেছে। এছাড়া যুদ্ধের কারণে দীর্ঘ প্রায় তিন মাস আটকে থাকার পর—ইরাকের অপরিশোধিত তেলবাহী একটি সুপারট্যাঙ্কারও চীনের উদ্দেশ্যে তার যাত্রা সম্পন্ন করেছে বলে জানা গেছে।
তবে বরাবরের মতোই, হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজার এক ধরনের চরম উত্তেজনার মধ্যেই থাকবে এবং দামের এই ওঠানামা অব্যাহত থাকবে। নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ তেলের দামকে আবার আকাশচুম্বী করে তুলতে পারে জেনেও, বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা আপাতত একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক সমাধানের ওপরই ভরসা রাখছেন।







