একইসঙ্গে ১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে রাজারবাগে সব পুলিশ সদস্যকে একসঙ্গে জড়ো করে রাখার পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কী কৌশল ছিল, তা নিয়ে গবেষণারও তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে রাজারবাগে হানাদার বাহিনীর ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর বর্বর হামলায় শহীদ পুলিশ সদস্যদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, একদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার ‘উই রিভোল্ট’, অপরদিকে ঢাকায় রাজারবাগ পুলিশের মরণপণ প্রতিরোধ– এরপর স্বাধীনতার লড়াই থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের পিছিয়ে থাকার আর কোনো সুযোগ ছিল না।
দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে জনগণের রায়ে গঠিত বর্তমান সরকার। বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য হামলা-মামলার শিকার, নির্যাতিত, নিপীড়িত, অধিকারহারা মানুষ বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে শান্তি ও নিরাপত্তা চায়।
দেশের মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের ভূমিকার ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনারা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধ্য এবং সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবেন– এটিই আপনাদের কাছে সরকারের প্রত্যাশা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই নির্বাচন প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন সম্ভব।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের, বিশেষ করে নারী পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্তের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, শুধু বিদেশেই নয়, দেশের জনগণের সঙ্গেও পুলিশের মানবিক আচরণ প্রত্যাশিত।
এর আগে বর্ণিল প্যারেড উপভোগ করে তিনি বলেন, আমার কাছে এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা মনে হয়নি, বরং এটি ছিল পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা, আত্মমর্যাদা, দায়িত্ববোধ এবং সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে চলার অবিচল অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ।
বক্তব্য শেষে প্যারেডে অংশগ্রহণকারী পুলিশ ও র্যাবের সব কর্মকর্তা ও সদস্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে ‘বাংলাদেশ পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।







