টানা আট মাসের নেতিবাচক ধারা কাটিয়ে গেল এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় জোরালোভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববাজারে পণ্যের ব্যাপক চাহিদা এবং বিশেষ করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির ওপর ভর করে বছরভিত্তিক রপ্তানি আয় ৩২.৯২ শতাংশ বেড়ে ৪০১ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) আজ রোববার (৩ মে) প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, মাসভিত্তিক রপ্তানি আয়ও গত মাসের ৩৪৮ কোটি ডলারের তুলনায় ১৫.২০ শতাংশ বেড়েছে।
এপ্রিলে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার লক্ষ্য করা গেলেও, চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল মেয়াদে মোট রপ্তানি আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৪০ কোটি ডলারে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের ৪ হাজার ২১ কোটি ডলারের তুলনায় ২.০২ শতাংশ কম।
রপ্তানি আয়ের এই প্রত্যাশিত পুনরুদ্ধারে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প (আরএমজি)।
ইপিবির তথ্য অনুসারে, জুলাই-এপ্রিল মেয়াদে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩ হাজার ১৭২ কোটি ডলার, যা বছরভিত্তিক হিসাবে ৩১.২১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। কেবলমাত্র এপ্রিল মাসেই পোশাক রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের ২৩৯ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ৩১৪ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। ইপিবির মতে, বিশ্ববাণিজ্যে বিদ্যমান নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও এই খাতের বৈশ্বিক চাহিদা যে এখনো অটুট রয়েছে, এই চিত্র তারই প্রতিফলন।
বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি গন্তব্য বা বাজারগুলোতেও আয়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি আয় বছরভিত্তিক হিসাবে ৪৩.০১ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যে ২৩.৪৬ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া দেশের শীর্ষ ২০টি রপ্তানি বাজারের প্রতিটিতেই বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক ছিল, যা প্রধান বাজারগুলোতে রপ্তানি আয়ের একটি সামগ্রিক পুনরুদ্ধারেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।







