জমানো টাকা উত্তোলন করতে না পেরে ও হেয়ার কাট বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসির একটি শাখায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ আমানতকারীরা।
রোববার (৩ মে) সকালে ব্যাংকের ওই শাখায় আমানতকারীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় গ্রাহকরা শাখা ব্যবস্থাপককে খুঁজে না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ঘটনাস্থলে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক আমানতকারী জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছি যাতে আমাদের লেনদেন স্বাভাবিক করা হয়। কিন্তু আমাদের দাবির কোন সুরাহা হয়নি। তাছাড়া ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলতেছে, হেয়ার কাট ৪ শতাংশ করা হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। আমরা হেয়ার কাট বাতিল চাই।
বিক্ষুব্ধ এক গ্রাহক অভিযোগ করেন, এই ব্যাংকে আমার এক কোটি টাকা জমা আছে। কিন্তু আমি এক হাজার পাচ্ছি না। প্রয়োজনের সময় আমরা সামান্য অর্থও তুলতে পারছি না। সামনে কোরবান আসতেছে। আমরা যদি টাকা তুলতে না পারি তাহলে কোরবার কিভাবে করব:?
এক নারী আমানতকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্যাংকের ম্যানেজার পালিয়ে গেছেন। তার কর্মকর্তাদেরকে রেখে তিনি আত্মগোপন করেছেন। আমরা হেয়ার কাট সিস্টেম মানি না। আমরা গত দুই বছরের মুনাফা কেন পাবো না।
অন্যদিকে ব্যাংকের কর্মীরা জানান, ব্যবস্থাপক ছুটিতে আছেন এবং সেকেন্ড অফিসার বিদেশে অবস্থান করছেন।
বিক্ষোভকারীরা ইউনিয়ন ব্যাংকে তালা ঝুলানোর পর পার্শ্বর্বর্তী ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকেও বিক্ষোভ শুরু করেন।
পরে কোতোয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
তবে ব্যাংকের কর্মীরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনা ছাড়া বড় অঙ্কের অর্থ সরবরাহ বা পরিশোধ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, তারা গ্রাহকদের সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করার সুযোগ দিচ্ছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে পাঁচটি ব্যাংক বড় লোকসান করেছে। ব্যাংকগুলো হল- ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। এ জন্য আমানতকারীরা এই দুই বছরের জন্য তাঁদের আমানতের বিপরীতে কোনো মুনাফা পাবেন না। আন্তর্জাতিক রীতি মেনে আমানতকারীদের দুই বছরের মুনাফা ‘হেয়ারকাট’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলোতে ৭ থেকে ৯ শতাংশ মুনাফার আমানত রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ ব্যাংকে বর্তমানে ৭৫ লাখ আমানতকারীর প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে। তার বিপরীতে এসব ব্যাংকের ঋণ রয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশ ইতিমধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে।







