চলতি ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই–ডিসেম্বর) সামগ্রিক বাজেট বাস্তবায়নে কিছুটা গতি এলেও উন্নয়ন ব্যয় ও বৈদেশিক খাতে ধীরগতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
অর্থ বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ছয় মাসে বাজেট বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৬৮ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরে বাস্তবায়ন বেড়েছে ৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এ সময়ে মোট ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেটের মধ্যে ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা—যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি।
রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে গত বছর এই হার ছিল মাত্র ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৩৯ শতাংশ।
তবে উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি কমেছে। এ সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ১৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৭ শতাংশের বেশি। অর্থাৎ সামগ্রিক ব্যয় বাড়লেও উন্নয়ন প্রকল্পে অগ্রগতি কম।
সরকারি ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক ১ শতাংশ, যা আগের বছরের ১৬ দশমিক ৩ শতাংশের তুলনায় কম। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতি বেড়ে ছয় মাসে দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি।
বৈদেশিক অর্থায়নে বড় ধরনের ধস লক্ষ্য করা গেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে যেখানে নিট বৈদেশিক অর্থায়ন ছিল ১৩ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা, সেখানে চলতি অর্থবছরে তা ঋণাত্মক হয়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকায়। পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ কমেছে প্রায় ১৬ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা।
বহির্বাণিজ্য খাতেও মিশ্র চিত্র দেখা যাচ্ছে। রফতানি প্রবৃদ্ধি ১১ শতাংশ থেকে কমে ঋণাত্মক ০.৯০ শতাংশে নেমেছে, যদিও আমদানি প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ শতাংশে। একই সময়ে প্রবাসী আয় প্রবৃদ্ধিও কমে ২৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে।
সব মিলিয়ে, রাজস্ব আয় ও সামগ্রিক বাজেট বাস্তবায়নে উন্নতি থাকলেও উন্নয়ন ব্যয়, বৈদেশিক অর্থায়ন ও রফতানি খাতে মন্থরতা অর্থনীতির জন্য নতুন চাপ হিসেবে সামনে আসছে।







