সদ্য বিদায়ী এপ্রিল মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। দীর্ঘ সময় বৃষ্টিহীন থাকার পর পশ্চিমা লঘুচাপের অস্বাভাবিক আধিক্যের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৪ জেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ টিবিএসকে জানান, এপ্রিল মাসে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয়েছে। সাধারণত এ সময়ের বৃষ্টি ২ থেকে ৪ দিন স্থায়ী হয়, কিন্তু এবার তা প্রায় ৮ থেকে ১০ দিন স্থায়ী হতে যাচ্ছে।
অস্বাভাবিক বৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “শীতকালে যে বৃষ্টিপাত হয় তা মূলত পশ্চিমা লঘুচাপের কারণে হয়। এর সময়কাল ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল। ভূমধ্যসাগরে একটি প্রেশার বা চাপ তৈরি হওয়ার ফলে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে বাতাস ধাবিত হয়। সেটি ইরান ও কাশ্মীর হয়ে দুই ভাগে ভাগ হয়ে এক ভাগ বাংলাদেশে আসে। এ বছর দীর্ঘ সময় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এখন পশ্চিমা লঘুচাপের পরিমাণ বেড়েছে। যেখানে সাধারণ মাসে একটি বা দুটি লঘুচাপ আসে, সেখানে এপ্রিলে একসাথে অনেকগুলো লঘুচাপ এসেছে। অথচ ২০২৪ সালে এ সময়ে টানা হিটওয়েভ বা তাপপ্রবাহ ছিল, এবার তার ব্যতিক্রম।”
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৫ দিনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের ওপর সক্রিয় লঘুচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিন সারাদেশে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত লঘুচাপের বর্ধিতাংশের কারণে এই বৃষ্টিপ্রবণ আবহাওয়া তৈরি হয়েছে।
২ মে সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। ৩ ও ৪ মে একই ধরনের বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
৫ মে থেকে বৃষ্টিপাতের আওতা আরও বাড়তে পারে এবং দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে ৬ মে থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কিছুটা কমে তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার তিন জেলার পাঁচটি নদীর ছয়টি স্টেশনে পানি প্রাক-মৌসুমী বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। স্টেশনগুলো হলো—সুনামগঞ্জের নলজুর নদী (জগন্নাথপুর), নেত্রকোনার ভুগাই-কংস (জারিয়াঞ্জাইল), সোমেশ্বরী (কলমাকান্দা), মগরা (নেত্রকোনা ও আটপাড়া) এবং হবিগঞ্জের সুতাং নদী (সুতাং রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্ট)।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাওর এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সিলেট ও সুনামগঞ্জে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী তিন দিন বাড়তে পারে এবং তৃতীয় দিনে কুশিয়ারা নদীর কোথাও কোথাও বিপদসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। নেত্রকোনার সংশ্লিষ্ট নিম্নাঞ্চলেও বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।
এছাড়া ধনু-বাউলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খালিয়াজুড়ি পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। হবিগঞ্জের খোয়াই ও সুতাং এবং মৌলভীবাজারের মনু ও জুড়ি নদীর পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে খোয়াই ও জুড়ি নদী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং মনু নদী সতর্কসীমায় থাকতে পারে। ফলে মৌলভীবাজারের হাওর এলাকায় নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং হবিগঞ্জে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।






