ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর অংশ হিসেবে ৩৪৪ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি ‘ফ্রিজ’ বা লেনদেন স্থগিত করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিনিদের দাবি, এই অর্থ তেহরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
বিশ্ব অর্থনীতিতে যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব এবং আলোচনার ক্ষেত্রে অচলাবস্থার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপ নিল। তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ফ্রিজ করার ফলে যুদ্ধ বা আলোচনার ক্ষেত্রে তেহরানের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট শুক্রবার জানান, তার দপ্তর ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু লেনদেন হিসাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, তেহরান মরিয়া হয়ে দেশের বাইরে অর্থ সরানোর যে চেষ্টা করছে, তার ওপর নজর রাখা হচ্ছে। ইরান সরকারের সঙ্গে যুক্ত সব ধরনের আর্থিক উৎস বা ‘লাইফলাইন’ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের মিশন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
ডিজিটাল মুদ্রা লেনদেনে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান ‘টেথার’ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, মার্কিন কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারা দুটি অ্যাকাউন্টে থাকা ৩৪৪ মিলিয়ন ডলার ফ্রিজ করতে সহায়তা করেছে। অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
তবে টেথার অ্যাকাউন্টগুলোর সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সিএনএন স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
মার্কিন একজন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান, ব্লকচেইন বিশ্লেষণের মাধ্যমে তারা এই তহবিলের সঙ্গে ইরানের সরাসরি যোগসূত্র পেয়েছেন। ব্লকচেইন বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় দেখা গেছে, ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওয়ালেট ও বিভিন্ন এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে এসব অর্থ লেনদেন করা হয়েছে।
ইরান, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মতো কঠোর নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা দেশগুলো বর্তমানে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ক্রিপ্টোকারেন্সির ওপর নির্ভর করছে। প্রথাগত ব্যাংকিং ব্যবস্থার তুলনায় ক্রিপ্টোকারেন্সিতে নজরদারি কম থাকায় তারা এই সুবিধা নিচ্ছে।
ক্রিপ্টো ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান ‘চেইনঅ্যানালাইসিস’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানে ক্রিপ্টোকারেন্সির মজুত বেড়ে ৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর প্রায় অর্ধেকই নিয়ন্ত্রণ করছে দেশটির প্রভাবশালী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। চেইনঅ্যানালাইসিস সিএনএনকে জানায়, ফ্রিজ করা অ্যাকাউন্টগুলোর লেনদেনের ধরন আইআরজিসির আগের লেনদেনের পদ্ধতির সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।
আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো ড্যানিয়েল ট্যানেনবাম বলেন, সম্পদ ফ্রিজ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে ইরান কয়েক দশক ধরে এমনিতেই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকায় এটি তাদের অবস্থানে খুব একটা প্রভাব ফেলবে না। তার মতে, ইরানকে সত্যিই চাপে ফেলতে হলে চীনসহ যেসব তৃতীয় পক্ষ তাদের সহায়তা করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
ইতোমধ্যে ইরানের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল কেনার দায়ে চীনের একটি স্বাধীন তেল শোধনাগারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন অর্থ দপ্তর।
ট্যানেনবাম আরও উল্লেখ করেন, ইরান বেশ কয়েক বছর ধরেই ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করছে।
মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থাকতে চায়, এমন গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে তারা এই বিকল্প লেনদেন পদ্ধতি ব্যবহার করবে বলে মত ট্যানেনবামের। বর্তমানে অতিরিক্ত অস্ত্র ব্যয় মেটাতে ইরান সম্ভাব্য সব উপায় ব্যবহারের আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে গত বছর ইরানের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ থেকে প্রায় ৯ কোটি ডলার মূল্যের ডিজিটাল মুদ্রা সরিয়ে নিয়েছিল হ্যাকাররা, যাদের ইসরায়েলপন্থী বলে ধারণা করা হয়।







