হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধের জেরে শিপিং কোম্পানিগুলোকে পানামা খাল দিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাতায়াতের জন্য ৪০ লাখ ডলার পর্যন্ত পরিশোধ করতে হচ্ছে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এ তথ্য জানিয়েছে।
এএফপির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী একটি জাহাজ দীর্ঘ অপেক্ষা এড়াতে ৪০ লাখ ডলার (প্রায় ৪৯ কোটি ঠাকা) অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করেছে। সাধারণত এ খালে প্রবেশের জন্য জাহাজকে প্রায় পাঁচ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
সাধারণত এই খালে নির্দিষ্ট হারে ফি নেওয়া হয়, কিন্তু অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রবেশের জন্য নিলামের মূল্য ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
হরমুজ প্রণালি এড়ানোর জন্য জাহাজগুলো পথ পরিবর্তন করায়, দ্রুতগামী স্লটের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যা কোম্পানিগুলোকে কয়েক দিনের বিলম্ব এড়াতে সাহায্য করছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এই ধরনের অর্থ প্রদানের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই হামলার ফলে হরমুজ প্রণালি অবরোধ করা হয়, যা উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে বিশ্বের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির এক-পঞ্চমাংশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ।
খাল ব্যবহারের জন্য জাহাজগুলো সাধারণত আগে থেকেই সময় বুকিং করে। তবে যাদের বুকিং থাকে না, তারা গড়ে পাঁচ দিন অপেক্ষা করে। আর জরুরি ভিত্তিতে এই খাল ব্যবহার করে আগে পার হতে চাইলে, অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে সুযোগ নেওয়া যায় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি এক নিলামে একটি এলএনজি জাহাজ ৪ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪৯ কোটি টাকা) পর্যন্ত দর দিয়েছে। এ ছাড়া গত কয়েক সপ্তাহে দুটি তেলবাহী জাহাজ ৩ মিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৩৭ কোটি টাকা) বেশি দর দিয়েছে।
বিশ্বের মোট সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ৫% পানামা খালের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। এই রুটটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলকে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে সংযুক্ত করে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (অক্টোবর-সেপ্টেম্বর) পানামা খাল দিয়ে মোট ৬,২৮৮টি জাহাজ চলাচল করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩.৭% এর বেশি।
এই পরিবর্তন বিশ্ব বাণিজ্য ও শিপিং খরচের ওপর হরমুজ সংকটের ব্যাপক প্রভাবকেই তুলে ধরে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই







