সিডিএ সূত্রে জানা গেছে, শুধুমাত্র পানির সংযোগের অভাবে ১৯৯৫ সাল থেকে অব্যবহৃত পড়ে আছে কর্ণফুলী আবাসিক এলাকা। ৫২ একর জায়গার ওপর গড়ে ওঠা ৫১৭ প্লটের এই এলাকায় আবাসন শুরু করতে দীর্ঘ ৩৩ বছর আন্দোলন করতে হয়েছে বরাদ্দপ্রাপ্তদের। অবশেষে বোয়ালখালীর ভান্ডালজুড়ি প্রকল্প থেকে পানির সংযোগ দিতে সম্মত হয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। আগামী মাস থেকেই সেখানে পানির পাইপ স্থাপনের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম এ বিষয়ে বলেন, ‘সিডিএ প্রশাসন কর্ণফুলী ও অনন্যা প্রকল্প দুটিকে চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। কর্ণফুলীর ব্যাপারে আমরা আশাবাদী কারণ সেখানে দ্রুতই পানি সরবরাহ নিশ্চিত হবে। তবে ইউটিলিটি সার্ভিসের সমন্বয়ই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।’
অনিশ্চয়তা, চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকি
অন্যদিকে, ২০০৮ সালে ১৬৯ একর জায়গার ওপর ১ হাজার ৭৪৮টি প্লট নিয়ে শুরু হওয়া অনন্যা আবাসিক প্রকল্পে এখনো কোনো ভবন গড়ে ওঠেনি। পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগের অভাব ছাড়াও এখানে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা।
সিডিএ সদস্য স্থপতি ফারুক আহমেদ জানান, অনন্যার সুয়্যারেজ লাইনের পানি যাতে হালদা নদীতে গিয়ে না পড়ে, সেজন্য নতুন করে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। হালদা নদী রক্ষা করে স্বল্প খরচে কীভাবে এই প্রকল্পের উন্নয়ন করা যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে।
পরিকল্পিত আবাসন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার কারণে নগরবাসী পাহাড় কেটে বা জলাশয় ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছে। এতে নগরে বাড়ছে দুর্ঘটনা ঝুঁকি ও পরিবেশ বিপর্যয়। কর্ণফুলী আবাসিক এলাকার সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বলেন, ‘এই প্রকল্পগুলো চালু হলে পাহাড় কাটার প্রবণতা কমবে এবং নগরীর ওপর জনসংখ্যার বাড়তি চাপ হ্রাস পাবে।’ বর্তমানে চট্টগ্রামে সিডিএ’র অনুমোদিত বহুতল ভবনের সংখ্যা ৪ লাখ ২ হাজার।
নতুন তিন আবাসিক প্রকল্প
স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে পতেঙ্গার সাগরপাড়ে ‘বে ভিউ’, বায়েজিদ বাইপাস এলাকা এবং হাটহাজারীর ফতেয়াবাদে নতুন তিনটি আবাসিক প্রকল্পের পরিকল্পনা নিয়েছে সিডিএ। তবে এগুলো বাস্তবায়নের আগে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নূরুল করিম বলেন, ‘নতুন প্রকল্পগুলোর ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। সিডিএ বর্তমানে আর্থিক সংকটে রয়েছে এবং সরকার থেকে কোনো অনুদান পায় না। নিজস্ব আয় থেকেই আমাদের সব কাজ ও বেতন-ভাতা চালাতে হয়। তাই ব্যর্থতার ঝুঁকি এড়াতে সব ধরনের ইউটিলিটি সার্ভিস নিশ্চিত হওয়ার পরই চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, স্বাধীনতার আগে ও পরে মিলিয়ে সিডিএ এ পর্যন্ত ১০টি আবাসিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। তবে অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতাসহ নানা নাগরিক সমস্যার সমাধান এখনও অধরা।