কুমিল্লায় ১০ বছর আগে সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সেনাবাহিনীর এক সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসারকে গ্রেপ্তারের পর তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। তার নাম হাফিজুর রহমান। আজ বুধবার বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক এ আদেশ দেন। এর মধ্যে দিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রথম কোনো অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো।
তনুর ভাই রুবেল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, হাফিজুর রহমানকে তার বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরে তাকে কুমিল্লা সদর আদালতে হাজির করা হয়।
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই মামলায় এ পর্যন্ত ৪টি সংস্থার ৭ জন তদন্ত কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ১০ বছরে মামলার শুনানির জন্য অন্তত ৮০টি ধার্য তারিখ অতিবাহিত হলেও প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তে দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তা ছিল। সম্প্রতি মামলার তদন্তে নতুন গতি আসে।
গত ৬ এপ্রিল মামলার সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার জন্য আদালতের কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন। আদালতের সেই নির্দেশনার পরই তদন্তকারী সংস্থা এই গ্রেপ্তারের পদক্ষেপ নেয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেল ৫টার দিকে তনুর বাবা-মা ও ছোট ভাই রুবেল হোসেন কুমিল্লা আদালতে উপস্থিত হন। তনুর বাবা-মায়ের জবানবন্দি নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর নিজ বাসায় ফেরেননি তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
শুরুতে থানা পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনও রহস্য বের করতে পারেনি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দফতরে হস্তান্তর করে সিআইডি। গত প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দফতরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।







