একসময় গ্রামের নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনের প্রধান ভরসা ছিল কৃষি উৎপাদন ও পাহাড়ভিত্তিক বনসম্পদ। জমিতে ফসল, বন থেকে জ্বালানি, ফল, কাঠ সব মিলিয়ে স্বনির্ভর এক জীবনযাপন গড়ে উঠেছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সেই বাস্তবতা দ্রুত বদলে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে কৃষি ও প্রাকৃতিক সম্পদের উপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু জনসংখ্যার চাপ, বিত্তবানদের খাস জমি দখল এবং অসম বণ্টনের কারণে কৃষি ও বনসম্পদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা গ্রামীণ মানুষের জন্য ধীরে ধীরে দুর্বীষহ জীবনে রুপ নিয়েছে । একসময় যে বনাঞ্চল জীবিকার উৎস ছিল, তা এখন অনেক এলাকায় সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আগে জমি ও বনই ছিল জীবনের মূল ভরসা। এখন জমি কমেছে, জমি দখল বেড়েছে ফলে আয়ের পথ সংকুচিত হয়ে গেছে। অনেকেই শহরমুখী হচ্ছেন, আবার যারা গ্রামে আছেন তারা দিনমজুরি বা অস্থায়ী কাজের উপর নির্ভর করছেন।
বনজ সম্পদ গ্রামীণ পরিবারের আয়ের প্রায় ১৫–২০ শতাংশ পর্যন্ত জোগান দেয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বন উজাড় ও অবৈধ কাঠ সংগ্রহের কারণে বনসম্পদের উপর চাপ বেড়েছে। ২০০১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশে প্রায় ৯ শতাংশ বন আচ্ছাদন কমে গেছে বলে তথ্য পাওয়া যায় । এতে বননির্ভর মানুষের জীবিকা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

পাশাপাশি বর্তমানে খাস জমির ৬০–৮০ শতাংশ পর্যন্ত প্রভাবশালী মহলের দখলে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। যার কারণে প্রকৃত ভূমিহীনদের অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী এসব জমি দরিদ্র ও ভূমিহীনদের মধ্যে বণ্টনের কথা থাকলেও বাস্তবে প্রভাবশালী মহলের দখলে চলে যাচ্ছে অধিকাংশ জমি।
এ ধরনের দখলের ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং পতিত বা অপব্যবহৃত জমির সংখ্যা বাড়ছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। যার ফলে সাধারণ মানুষজন হারাচ্ছে তাদের বসতি।

বিশ্লেষকদের মতে, খাস জমির সঠিক ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছ বণ্টন প্রক্রিয়া এবং কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা না গেলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে। তারা দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
তাদের মতে, টেকসই কৃষি, বন সংরক্ষণ এবং বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ নেই। অন্যথায় গ্রামের নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে।






