যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি আদালত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলায় সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরকে জবানবন্দি (ডিপোজিশন) দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১০ এপ্রিল তিনি এ জবানবন্দি দেবেন। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।
নথিতে বলা হয়, গত ১১ মার্চ ইমেইলে আদালতের এ নির্দেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে জবানবন্দির প্রস্তুতি সম্পর্কে তথ্য জানিয়েছেন মামলায় যুক্ত আইনজীবী ধর্মেন্দ্র নায়ার এবং ব্যারিস্টার সৈয়দ আফজাল হাসান উদ্দিন।
নথি অনুযায়ী, আদালতের অনুরোধে ড. মনসুর ইতোমধ্যে একটি হলফনামা জমা দিয়েছেন। পরবর্তী ধাপে তাকে সরাসরি জবানবন্দি দিতে হবে।
এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ দেওয়া আইনিপ্রতিষ্ঠান বিএসএনকে ও কিস্টোন তার জন্য ৬ ও ১০ এপ্রিল প্রস্তুতিমূলক বৈঠকের আয়োজন করেছে।
জানা যায়, ড. আহসান এইচ মনসুর গত ৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বাংলাদেশ ছেড়েছেন। তিনি ওয়াশিংটন ডিসি হয়ে নিউইয়র্কে যাবেন।
আগামী ১২ এপ্রিল তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। সফরে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তাকে নিয়ে যাওয়ারও অনুরোধ করেছেন তিনি।
বিএফআইইউর নথিতে বলা হয়, এই সফরের সব ব্যয় বহন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বিমান ভাড়া, হোটেল, প্রটোকলসহ বর্তমান গভর্নরের সমমানের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থাপনা গভর্নরের দপ্তর থেকে করা হবে।
এ ছাড়া মামলার বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য বিএফআইইউর উপ-প্রধান মো. মফিজুর রহমান খান চৌধুরীকেও একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন মামলার আইনজীবীরা।
তিনি বিশেষজ্ঞ সাক্ষ্য ও চলমান বিষয় নিয়ে আলোচনায় অংশ নেবেন।
মামলায় সহ-প্রধান আইনজীবী প্রতিষ্ঠান কোজেন ও’কনরের সঙ্গেও বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে।
নথিতে উল্লেখ করা হয়, ৪ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকবেন ড. মনসুর ও বিএফআইইউর উপ-প্রধান। এ ব্যয়ও বহন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ ছাড়া মামলার সমন্বয় কার্যক্রমে সহায়তার জন্য রিজার্ভ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় যুক্ত আরও এক কর্মকর্তাকে মনোনয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জবানবন্দি সংক্রান্ত খরচ বাবদ ১৫ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড পরিশোধের অনুরোধ জানিয়েছেন কিস্টোনের আইনজীবী ধর্মেন্দ্র নায়ার।
নিউইয়র্ক সফরসহ সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের জন্য ১১ মার্চ একটি বিলও পাঠানো হয়েছে।
একই সঙ্গে ব্যারিস্টার সৈয়দ আফজাল হাসান উদ্দিনের ৮ থেকে ১০ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র সফরের অনুমোদনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
নথিতে বলা হয়, আগের শুনানিতেও তিনি উপ-গভর্নরের সমমানের সুযোগ-সুবিধা পেয়েছিলেন।
তবে বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে সফরসংক্রান্ত আদেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ না করার সুপারিশ করা হয়েছে।
যদিও এ বিষয়ে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। এই সফর প্রসঙ্গে ড. আহসান এইচ মনসুরের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।







