চট্টগ্রাম বন্দর-এ থাকা ছয়টি জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আরও চারটি জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমায় অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বুধবার (১১ মার্চ) সকালে বন্দর কর্তৃপক্ষের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এসব জাহাজে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল এবং শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজ থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি খালাস শুরু হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন জ্বালানি ডিপো ও শিল্পখাতে সরবরাহ করা হবে।
বন্দর সূত্র জানায়, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই আরও চারটি জ্বালানিবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর এলাকায় এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে দেশের অন্তত দেড় মাসের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত রয়েছে। ফলে স্বল্পমেয়াদে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তবে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোকে সম্ভাব্য নাশকতার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ কারণে বহির্নোঙরে অবস্থান করা জাহাজগুলোর জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, নৌপথে টহল জোরদার করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড-কে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বন্দরের নিজস্ব নিরাপত্তা ইউনিটকেও সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
বন্দর কর্মকর্তারা জানান, অতীতে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার কারণেই এবার বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরপরই চারটি জ্বালানিবাহী জাহাজে রহস্যজনক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে তখন ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ওই ঘটনাগুলোর পূর্ণ তদন্ত শেষ না হলেও নিরাপত্তা ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বন্দর কর্তৃপক্ষের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অপশক্তি সংকটের সুযোগ নিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজে নাশকতা চালানোর চেষ্টা করতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে। তাই জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌ টহল, নজরদারি এবং গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা দেশের অর্থনীতি ও শিল্পখাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আমদানি হওয়া জ্বালানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব সংস্থার সমন্বয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রদা/ডিও






