পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
পাঁচ ব্যাংকের নিয়োগ দেওয়া প্রশাসক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এমন বার্তা দেন নতুন গভর্নর। আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গভর্নরের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সম্মিলিত ব্যাংক নিয়ে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা অব্যাহত থাকবে এবং দ্রততার সঙ্গে তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন গভর্নর। তাছাড়া এসব ব্যাংক থেকে অর্থ যারা তছরুপ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এসব ব্যাংকের তহবিল তছরুপের সাথে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করবে সরকার।
মঙ্গলবারের বৈঠকে গভর্নর আরও বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডি নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর ব্যাংকটির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ অব্যাহত থাকবে। এছাড়া পাঁচ ব্যাংকের আওতায় যেসব কারখানার অস্তিত্ব রয়েছে, তা চালুর উদ্যোগ নিতে হবে। এসব কারখানা যেন উৎপাদনে আসতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে।
কোনো প্রতিষ্ঠানের বিদেশি বকেয়া থাকলে তা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। গভর্নরের এই বার্তার মাধ্যমে পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণ নিয়ে যারা ধোঁয়াশা তৈরির চেষ্টা করছেন— সেখানে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন উপস্থিত কর্মকর্তারা।
এর আগে গত রোববার ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) প্রতিনিধিরা সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে একই রকম বার্তা দেন গভর্নর। সেখানে তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে চলমান সব সংস্কার অব্যাহত থাকবে।
নতুন গভর্নর কোনো রাজনৈতিক চাপের কাছে নতিস্বীকার করবেন না। একই সাথে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, প্রথম ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থানের জন্য নীতি সহায়তা দেওয়া হবে। আর এ জন্য রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বন্ধ হওয়া কারখানা সচলে নীতি সহায়তার কথা বলেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নিয়ে আমানতকারীর অর্থ ফেরত দিতে না পারা– এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করেছে।
নতুন ব্যাংকটি মোট ৩৫ হাজার কোটি টাকার মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। প্রায় ৭৮ লাখ আমানতকারীর আমানত বীমা তহবিল থেকে দুই লাখ টাকা করে মোট ১২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রদা/ডিও






