নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স অনুমোদন ঘিরে বিতর্কের মুখে সোমবার কোনো লাইসেন্স দেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল জরুরি পর্ষদ সভা স্থগিতের দাবি জানালে শেষ মুহূর্তে সভার কার্যসূচি পরিবর্তন করা হয়।
দুপুরে গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় লাইসেন্স অনুমোদনের পরিবর্তে আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাপ্ত নম্বর ও অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। ফলে ডিজিটাল ব্যাংক অনুমোদন প্রক্রিয়া কার্যত স্থগিত থাকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, এদিন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এর আগে সকালে সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলের নেতারা অভিযোগ করেন, জাতীয় নির্বাচনের পর সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলাকালে মাত্র একদিনের নোটিশে জরুরি সভা ডাকা স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বের পরিপন্থি। তারা দাবি করেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে লাইসেন্স প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হচ্ছিল এবং এতে স্বার্থের সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই বহিরাগত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা, কার্ড ইস্যু প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং নীতিনির্ধারণে যোগ্যতাহীন ব্যক্তিদের যুক্ত করার অভিযোগও তোলা হয়।
কাউন্সিলের মতে, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী এক ব্যাংক অন্য ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি হতে পারে না এবং ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণে সরকারি অনুমোদন প্রয়োজন। বিদ্যমান খেলাপি ঋণের উচ্চহার ও কিছু ব্যাংকের তারল্য সংকটের প্রেক্ষাপটে নতুন ডিজিটাল ব্যাংকের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন এ কে এম মাসুম বিল্লাহ এবং বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণসহ অন্যান্য নেতা। তাদের দাবির মধ্যে ছিল—লাইসেন্স প্রক্রিয়া স্থগিত, সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাতের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মোট ১৩টি প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের আবেদন করেছে। উল্লেখযোগ্য আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছে রবি আজিয়াটা লিমিটেড, স্কয়ার গ্রুপ, ডিবিএল গ্রুপ, আকিজ রিসোর্স ও বিকাশ-সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা।
সব মিলিয়ে কর্মকর্তাদের প্রতিবাদ ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স অনুমোদন আপাতত ঝুলে গেছে।






