দেশের আমদানি কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন বছরের শুরুতেই গতি ফিরে এসেছে। গত জানুয়ারি মাসে আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার, যা গত ১১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ ব্যাংক–এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জানুয়ারিতে এলসি নিষ্পত্তির পরিমাণ ছিল ৬ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার। এর আগের বছরের একই সময়ে এলসি খোলার পরিমাণ ছিল ৬ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার।
ব্যাংকারদের মতে, জানুয়ারিতে এলসি বৃদ্ধির পেছনে দুটি প্রধান কারণ কাজ করেছে। প্রথমত, আসন্ন রমজান উপলক্ষে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা মেটাতে ব্যবসায়ীদের আমদানি তৎপরতা বেড়েছে। দ্বিতীয়ত, জাতীয় নির্বাচনের পর ব্যবসায়িক পরিবেশে আস্থা ফিরতে শুরু করায় কিছু উদ্যোক্তা মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে আগ্রহী হয়েছেন।
পূবালী ব্যাংক–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ আলী বলেন, রমজান সামনে রেখে চাল, ডাল, তেল, খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এলসি বেড়েছে, যা প্রতিবছরই এ সময় দেখা যায়।
তবে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি এখনও নিম্নমুখী। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ১০ শতাংশ, যা টানা সাত মাস ধরে ৭ শতাংশের নিচে রয়েছে। ব্যাংকাররা বলছেন, নতুন বিনিয়োগ কম থাকায় গত কয়েক মাসে এলসি খোলার হারও নিম্নমুখী ছিল।
রমজান সামনে রেখে ভোগ্যপণ্যের আমদানিও বেড়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড–এর তথ্য অনুযায়ী, গত চার মাসে পেঁয়াজ, চিনি, মসুর ডাল, সয়াবিন তেল ও গমসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। সয়াবিন তেল, মসুর ডাল ও খেজুর আমদানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল চোখে পড়ার মতো।
খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে এবং ডলার সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে সামনে আমদানি ও বিনিয়োগ কার্যক্রমে আরও গতি আসতে পারে।







