বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার নির্বাচিত বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ আজ সোমবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিয়েছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে এই সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছি আমরা।’
সচিব আরও জানান, তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর এখন বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে কমিশন। পরবর্তীতে আসনটিতে উপ-নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করা হবে।
আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষে শুক্রবার ২৯৭ জনের গেজেট প্রকাশ করা হয়। এবারের নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানই একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেছেন। নির্বাচনে ২০৯টি আসন পেয়ে বিএনপি এবার এককভাবে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। মঙ্গলবারই সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে।
দেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুসারে এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিনটি আসনে নির্বাচন করতে পারলেও সংবিধান অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্য কেবল একটি আসনেরই প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন।
সংবিধানের ‘দ্বৈত-সদস্যতায় বাধা’ সংক্রান্ত ৭১ অনুচ্ছেদের ১ দফায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি একই সময়ে দুই বা ততোধিক নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য হবেন না। অনুচ্ছেদ ৭১ (২)-এ বলা আছে, কোনো ব্যক্তি একাধিক এলাকা থেকে নির্বাচিত হলে গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে তিনি কোন এলাকার প্রতিনিধিত্ব করতে ইচ্ছুক, তা স্বাক্ষরযুক্ত ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে। অন্যথায় তিনি যেসব আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন, সবগুলোই শূন্য হবে। এছাড়া এই বিধান পালন না করা পর্যন্ত নির্বাচিত ব্যক্তি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ বা শপথপত্রে স্বাক্ষর করতে পারবেন না।
অন্যদিকে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১৩ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি একই সময়ে তিনটির অধিক নির্বাচনি এলাকার জন্য প্রার্থী হতে পারবেন না। এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর সকল মনোনয়নপত্র বাতিল করার বিধান রয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ১৯৭২ সালের মূল আরপিও-তে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ কয়টি আসনে লড়তে পারবেন, তা উল্লেখ ছিল না। পরে ১৯৮৬ সালে প্রথমবারের মতো একজন ব্যক্তির সর্বোচ্চ পাঁচটি আসনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ২০০৮-২০০৯ সালে আরপিও সংশোধনের মাধ্যমে এই সংখ্যা কমিয়ে সর্বোচ্চ তিনটিতে সীমাবদ্ধ করা হয়।







