আদানি পাওয়ার লিমিটেড ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া বিল নিয়ে বিরোধ চলমান। ভারতীয় কোম্পানি তাত্ক্ষণিকভাবে বকেয়া পরিশোধের অনুরোধ জানিয়ে সতর্ক করেছে, নাহলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
পিডিবির চেয়ারম্যানের কাছে গত ২৯ জানুয়ারি চিঠিটি পাঠিয়েছেন আদানি পাওয়ার লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট অবিনাশ অনুরাগ। এতে বলা হয়, চুক্তি অনুসারে তাদের পাওনা ৫৭ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রতি ডলারে ১২২ টাকা ধরে যা ৬ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা)। এর মধ্যে ৩০ কোটি ডলারের বকেয়া নিয়ে পিডিবির সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই।
আদানি সূত্র বলছে, গত সরকারের সময় বকেয়া প্রায় ৭০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কয়েক দফা তাগাদা দিলে বকেয়া শোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত বছরের জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে নিয়মিতভাবে বিল পরিশোধ করেছে পিডিবি। একই সঙ্গে কিছু কিছু করে পুরোনো বকেয়াও শোধ করা হয়। এতে মোট বকেয়া কমতে থাকে। তবে দুই মাস ধরে পিডিবি বিল পরিশোধ কমিয়ে দিয়েছে। এতে পরিস্থিতি আবার জটিল হয়ে উঠছে।
চিঠিতে আদানি ১১ কোটি ২৭ লাখ ডলার তাত্ক্ষণিকভাবে পরিশোধের অনুরোধ করেছে, যার মধ্যে ৫ কোটি ৩২ লাখ ডলারের দেরিতে বিল সারচার্জ এবং ৫ কোটি ৯৬ লাখ ডলারের অক্টোবর মাসের বিল। আদানি জানিয়েছে, বকেয়া বাড়ায় কয়লা আমদানি, সরবরাহকারীদের বিল পরিশোধ ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে চাপ তৈরি হচ্ছে। তারা বাংলাদেশের সরকারের কাছে সুস্পষ্ট সময়সূচি চেয়ে অনুরোধ করেছে।
এর আগে, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে আদানি বকেয়া না শোধ হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের হুমকি দিয়েছিল। এরপর কিছু বিল শোধ করা হলেও ডিসেম্বর থেকে বকেয়া পুনরায় বাড়তে শুরু করেছে।
পিডিবির চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ায় বিল শোধের পরিমাণ কমেছে, তবে মার্চ থেকে তা বাড়ানো হবে।
উল্লেখ্য, ঝাড়খন্ড, ভারতের আদানির ১,৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ২০১৭ সালে ২৫ বছরের চুক্তিতে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নির্মাণ করা হয়। শীতে চাহিদা কম থাকায় বর্তমানে এটি সর্বোচ্চ ৭৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।
অতীতে আদানির বিল নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে। কোম্পানি কয়লার বাড়তি দাম ধরে বিল করছে, আর পিডিবি বাজারদরে পরিশোধ করছে। এ বিষয়ে দেশের উচ্চ আদালতে একটি রিট মামলা চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের চুক্তি পর্যালোচনা কমিটি আদানির চুক্তি ও প্রক্রিয়ায় অনিয়মের তথ্য পেয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের নিয়োগকৃত আন্তর্জাতিক আইনজীবীরা এ বিষয়ে কাজ করছেন।
প্রদা/ডিও







