এবার প্রথমবারের মতো পোস্টাল ভোটের সুযোগ পেলেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট সময়মতো দেশে পৌঁছানো নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দেশে-বিদেশে মিলিয়ে ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেন, এর মধ্যে প্রবাসী ছিলেন প্রায় সাড়ে সাত লাখ। তবে ভোটের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকলেও এখন পর্যন্ত জমা পড়া ভোটের বড় অংশই রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছায়নি।
৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর পর্যন্ত প্রবাসীদের দেওয়া প্রায় চার লাখ ৫১ হাজার ব্যালটের মধ্যে দেশে পৌঁছেছে মাত্র এক লাখ ৬৬ হাজারের কিছু বেশি। অর্থাৎ বিদেশে জমা পড়া ভোটের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এখনো গণনার বাইরে রয়ে গেছে। আবার অনুমোদিত প্রবাসী ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এখনো ভোটই দিতে পারেননি বা ব্যালট হাতে পাননি। নির্বাচন কমিশনের আগের হিসাব অনুযায়ী পুরো প্রক্রিয়ায় ১৫ থেকে ৩০ দিন সময় লাগার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক দেশেই ডাক বিলম্ব, তুষারপাত, স্ট্রাইক ও যোগাযোগ সমস্যার কারণে ব্যালট পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে।
প্রবাসী ভোটার প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান জানান, শুক্রবারের মধ্যে যেসব ব্যালট পোস্ট করা হবে সেগুলো পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, এমনকি সরাসরি ফ্লাইট না থাকলেও ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেশে এলে গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব। তবে যেসব ব্যালট এখনো ভোটারের হাতে পৌঁছায়নি সেগুলো নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। তিনি বলেন, অনেক দেশে পোস্ট অফিসে ব্যালট পড়ে থাকলেও ভোটারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি বলে সেগুলো ফেরত পাঠানো হয়েছে।
প্রবাসীদের প্রতিক্রিয়াও মিশ্র। কেউ ভোট দিতে পেরে উচ্ছ্বসিত হলেও স্বচ্ছতা ও গণনায় অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। আবার কেউ কেউ ব্যালট ‘ডেলিভারড’ দেখালেও বাস্তবে হাতে না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। মালয়েশিয়া ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশে ভোটের বড় অংশ এখনো দেশে পৌঁছায়নি। পাশাপাশি ব্যালট নকশা, বিতরণ ও নিরাপত্তা নিয়েও আগেই নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে প্রথমবারের এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলা হলেও সময়ের স্বল্পতা, ডাক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে প্রবাসীদের বড় একটি অংশের ভোট আদৌ গণনায় আসবে কি না—সেই অনিশ্চয়তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।






